১৫ মার্চ, ২০২২

Sura Bakara 62-192

 ২-বাক্বারা

(2:62)

অনুবাদ:    নিশ্চিতভাবে জেনে রেখো, যারা শেষ নবীর প্রতি ঈমান আনে কিংবা ইহুদি, খৃষ্টান বা সাবি তাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তিই আল্লাহ‌ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনবে এবং সৎকাজ করবে তার প্রতিদান রয়েছে তাদের রবের কাছে এবং তাদের জন্য কোন ভয় ও মর্মবেদনার অবকাশ নেই।

(2:63)

৯ মার্চ, ২০২২

অকালেই ঝরে গেল সিয়াম

  বরিশালের বরগুনার বেতাগীতে গ্রামের বাড়ি। বাবা-মায়ের একমাত্র পুত্র সন্তান। নাম সিয়াম। ষষ্ঠ শ্রেণির একজন ভালো ছাত্র ছিল।পড়ত শহিদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ, মিরপুর ১৪ এ। আমার ছেলের ভালো বন্ধু ও।ওর মায়ের সঙ্গে কয়েকবার দেখা হয়েছে। খুব ভাল। আমার ছেলের স্কুলে যাওয়া আসায় সহযোগিতা করেছিলেন। ভুলতে পারব না। 

  বাবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ চাকরি করত।করনা- ১৯ এর ঝড়ে চাকরি হারালেন। অনেক চেষ্টা করে ও সচ্ছলতা আনতে পারেন নি পরিবারে। অগত্যা স্ত্রী ও সসন্তানকে গ্রামের বাড়ি পাঠালেন। ছেলেকে ভর্তি করলেন গ্রামের স্কুলে। ছেলে বলেছিল বাবা আমাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দাও। না হলে আল্লাহর কাছে ঠেকে যেতে পার।আল্লাহ মাপ করুক হয়তো জবাব নাও দেওয়া লাগতে পারে। 

  বাবা ঢাকাতে রইল। মা ছেলে গ্রামের বাড়ি। গত শুক্রবার ০৪/০৩/২০২২ নামজে যাওয়ার জন্য গোসল করতে গেল। শহরে বড় হয়েছে। সাতার কাটতে জানেনা। আধা ঘণ্টা পর পুকুরে লাশ পাওয়া গেছে। পানি খুব কম।পানির পরিমাণ  শুনেছি হাটুর একটু বেশি। নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছিল। ২০২১ সনে সিয়ামের নানা-নানি মারা যায়, বাবা চাকরি হারায়। 

   সন্তান হারানোর সময় ধৈর্য ধারণ করা : সন্তান হারানো মাতা-পিতা সন্তান মারা যাওয়ার পর যদি ধৈর্যধারণ করে এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকে। আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণ করে থাকেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘‘কোনো বান্দার কোনো সন্তান মারা গেলে তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর ফেরেশতাদের প্রশ্ন করেন, তোমরা আমার বান্দার সন্তানকে ছিনিয়ে আনলে? তারা বলে, হ্যাঁ। ...পুনরায় তিনি প্রশ্ন করেন, তখন আমার বান্দা কি বলেছে? তারা বলে, সে আপনার প্রতি প্রশংসা করেছে এবং ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পাঠ করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, জান্নাতের মধ্যে আমার এই বান্দার জন্য একটি ঘর তৈরি কোরো এবং তার নাম রাখো বাইতুল হামদ বা প্রশংসালয়। ” (তিরমিজি, হাদিস : ১০২১)

  আমার জানা মতে তার বাবা-মা উভয়ই খুব ভাল।আল্লাহ ধর্য্যশীলদের পুরস্কার দিবেন।আর কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবেই।নিষ্পাপ ছেলের সুপারিশে আল্লাহ যেন তাদেরকে বেহেশত দান করেন। আমিন।

 



২ মার্চ, ২০২২

বেরসিকের বাল্যকাল, শিক্ষা ও বর্তমান

  "মানুষের ভাগ্যে যা ঘটে যায় তাই সেরা,অন্য কিছু হলে এর চেয়ে খারাপ হতে পারতো। আল্লাহ মানুষের ভালো চান।"

'

   অনেক দিন ধরে কিছু লিখবো ভাবছিলাম। কিন্তু  কি লেখা যায় তা খুঁজে না পেয়ে নিজের জীবনের কিছু ঘটনা এলোমেলো ভাবে মনে পড়ে  । যখন খুব ছোট ছিলাম তখনকার হাজার ও স্মৃতির মধ্য থেকে কিছু এবং এখনকার অবসর জীবনপরযন্ত যা মনে পড়ে তা থেকে লেখা শুরু করি। 

 শিশুকাল (Childhood) ঃ 

গ্রামের সবুজ  ঘন বনে ঘেরা ছোট কুটিরে কোন এক সোমবারে (মায়ের মুখ থেকে শুনা)  জন্ম ১৯৬৩ সালে হতে পারে।

 দাদা,বাবা প্রথম শ্রেণীতে পড়া কালিন একদিন পর পর কলেরায় মারা যান।তিন মাস পরে ছোট ভাই মারা যায়।মা এবং আমার চেয়ে  দু'বছরের বড়ো ভাই এ-র তদারকিতে সংসার চলতে থাকে। সংসারে সদস্য  পাঁচ  ভাই, দুবোন এবং মা । আমি নিজেও মাঝে মাঝে কৃষি কাজ করেছি।একবার তিন কিলোমিটার দূরে কাজ করতে গিয়ে সংগে খাবার ছিল আটার রুটি এবং কাঁচা মরিচ। পরিশ্রমের পর খাবার দারুণ মজা লাগছিল।  ১৯৭৩ সনে বন্যায় ফসলের ক্ষতি হওয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। আল্লাহ সে সময় তাদের সহায় হন।

পরিচয় :-

দাদা মিয়া ইদ্রিস আলী নোয়াখালীর বরতমান লক্ষীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবা মিয়া জান মুন্সি একজন আলেম ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি পাল্কিতে বেড়াতেন এবং ছোটো খাট আকার মানুষ ছিলেন। তার ভাতিজা বসু মিয়া চাচার বদোউলতে তার কবর দেখার সোউভাগ্য হয়েছিল।

 দাদী পাগল হওয়ায় ১৯৪৮ সনের রায়টের পর দাদা তার ছোট মেয়েকে সুবর্নের চরে পালক দিয়ে ছেলে হাফিজুর রহমান ও আব্দুর রব এবং মেয়ে হাজেরা কে নিয়ে ফরিদপুর এর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির মেছুয়াঘাটা গ্রামে যা দক্ষিণ বাড়ি মৌজায় বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন। বড়ো মেয়ে দক্ষিণ অভিরাম্পুর, চন্দ্র গঞ্জ শশুর বাড়ি রয়ে যায়।

 পঁাচ ভাই দুই বোন ছিল। মা অনেক কষ্ট করে সংসার পরিচালনা করতেন। সেই সুবাদে আল্লাহর ইচ্ছায় খাবার অভাব ছিল না।


স্কুল জীবন (School Life) : 

বয়স যখন ৪/৫ বছর ভর্তি করা হল মাদ্রাসায়  ইসলামী শিক্ষার সাথে বাল্য শিক্ষা। পরে দাদা হেলার উদ্দিন , নজরুল এর বাবার  সহযোগিতায় নজরুলের সাথে  সোনাপুরে অবস্্থিত Majbari Primary School এ  পড়াশোনা শুরু ১৯৬৭ সালে।

বাড়ী থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দুরে প্রাথমিক  বিদ্যালয়ে পড়াশুনা। পড়াশোনা ভালোই করছিলাম। প্রতিবারের মতো এবারও শ্রেনীতে প্রথম ও ৫ম শ্রেনীর বৃত্তি পেলাম। 

তারপর মাজবাড়ী হাই স্কুলে ভর্তি হই।পায়ে জুতা ছাড়াই চলল ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশোনা ।  এবার ও অষ্টম শ্রেণির  বৃত্তি পেলাম। অবদান মা, বড়ো ভাই এবং শিক্ষক গণের এবং আল্লাহর ইচ্ছাই বড়। ছোট বেলা  অনেকটা সহজ সরলভাবে দিন কেটে গেছে ।
এস এস সি পরীক্ষার সময় কোন এক পীর সাহেব আসলেন স্কুলের সবাইকে বলা হল হুজুরকে ছালাম কর।    প্রিয় কাশেম স্যার ছিলেন এ কাজের ভূমিকায়। যা হোক পরীক্ষা হয়ে গেল।স্কুলের  রেজাল্ট একমাত্র আমিই প্রথম বিভাগ পেলাম  ।

ছোট বেলা থেকে  নামাজ পড়ার চেষ্টা করেছি।


কলেজ জীবন(College Life):

  এটা একটু কষ্টের জীবন ছিল।
১৯৭৯ সনে  এসএসসি পাশ করার পরে রাজবাড়ী সরকারী কলেজে ভর্তি । আত্নীয় বাড়ি, হোস্টেল এবং লজিং(সূর্যনগর)  থেকে ক্লাস করার ৪ মাস পরে বুঝলাম এভাবে পড়াশুনা সম্ভব নয়। বালিয়াকান্দি কলেজের অফার ফ্রি থাকা খাওয়া সহ লেখাপড়া করা যাবে।যে কথা সেই কাজ। বালিয়াকান্দি কলেজে পুনরায় ভর্তি। ক্লাস চলতে থাকল  ৭ কিলোমিটার পায়ে হেটে বা বাইসাইকেলে। তার পরে একটি লজিং যা তিন মাস থাকা সম্ভব হয়েছিল।কারণ বাড়িওয়ালা রাত ১০/১১ টায় বাড়ি ফিরে পরিবারের লোকদের প্রতি গালিগালাজ করত যা আমার পছন্দ নয়।

প্রিন্সিপাল এর প্রতিশ্রুতি কোন কাজে আসেনি। শশুর বাড়ির লোকেরা আগে থেকেই আত্নীয় কিন্তু দুর দিনে কোন কাজে লাগেনি। 

 বালিয়াকান্দি থেকে বারেক গ্রাম প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। হেটে গিয়ে গনিত প্রাভেট পড়েছিলাম এক/দুই মাস প্রতি শুক্রবার লোহাগড়া কলেজের এক শিক্ষকের কাছে। আমাদের কলেজের গনিত শিক্ষক ভালো পড়াতে পারতেন না।পরে উনি অবশ্য শিখে নিয়েছেন। 

তারপর আমতলা  আত্নীয়  আবুল কাশেম,   আবুল হাসেম ভাইদের বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসাবে থাকা।তাদের অভাব শুরু হলে চলে যাই মেসে।শাহজাহান, শিরিন চাচা-ভাতিজি আমার প্রতিবেশী ও ক্লাস মেট।

৭ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে, বাইসাইকেলে, পেয়িং গেস্ট থেকে অনেক কষ্টে  এইস এস সি  পরীক্ষা হয়ে গেল। ফলাফল দ্বিতীয় বিভাগ। এ্ই ফলাফলে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছিল সহপাঠী   কিরন চৌধুরী। তবে কিরনের বোন মুসলিম হলেও কিরন অমুসলিম অবস্থায় মারা যাওয়ায়  মাঝে মাঝে  মন খারাপ হয়ে যায়।
এর পর অনার্সে ভর্তি কাহিনী আরও মজার। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ও ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে দুইবার ফোন করেছিলাম পরিচিত একজনকে। ফলাফল জানায়নি। বললো ভুলে গেছি।

নাটোর সরকারি সিরাজ দ্দোলা কলেজে বি এস সিতে ভর্তি।ইচ্ছা ছিলো মামার বাসায় থেকে লেখাপড়া করা।মামাতো ভাই ছোট্ট  বাবুলের একটি আচরণ মন খারাপ হল।একদিন ক্লাসের বই পড়ছিলাম। কোথা থেকে এসে বইয়ের উপর  থাপ্পড় দিয়ে বইটি ছিটকে ফেলে দিল।

 পাংশা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে  ভর্তি:- 

নাটোর থেকে এসে  পাংশা  বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে  ভর্তি।যাওয়া আসা ছিল কষ্টের।পায়ে হেটে, বাইসাইকেলে, রেলওয়ের মাধ্যমে ক্লাস করা।গনিত,পদার্থ বিদ্যা ও রসায়ন নিয়ে পড়া। প্রতিটি ১ম ১ম প্ত্র, ২য় পত্র,৩য় পত্র। রাজবাড়ী কলেজের এক শিক্ষকের কাছে এক মাস প্রাইভেট পড়েছিলাম গনিত। যাতায়াত ছিলো অনেক কষ্টের। বাড়ি থেকে বাইসাইকেলে কালুখালি রেলওয়ে ষ্টেশন, তারপর ট্রেনে রাজবাড়ী ষ্টেশন, এরপর আধা কিলোমিটার হেটে গনিত শিক্ষকের বাসায়। দুরভাগ্য বশত রসায়নে তিন নম্বর কম পাওয়ায় ফেল।

পরবর্তীতে পরীক্ষা দিলাম তিন জন পাস করে।আমি দ্বিতীয় বিভাগ  ও অন্য দুজন তৃতীয় বিভাগ  পেলাম। এভাবে   বি-এসসি ডিগ্রি লাভ  ১৯৮৫ সালে ।

বিয়ে ও চাকুরী :-

১৯৮৫ সালের ২৮ শে জুন বিয়ে করার পর দু বছর পর স্ত্রীকে বাড়িতে আনার কথা ।বিয়ের সময় স্ত্রী নবম শ্রেণির ছাত্রী। ইচ্ছে ছিল এস এস সি পাসের পর স্ত্রীকে বাড়িতে তুলে নিব।কিন্তু তা আর হলো না।লেখা পড়ায় ছিল ফাকি বাজ। 

বিয়ের আগে জানা ছিল রাগ বেশি। আমার  এক ছাত্রীর মা স্ত্রীর স্কুল শিক্ষিকা বিয়ে করতে নিষেধ করে ছিলো। বলে ছিল এত তাড়াতাড়ি বিয়ে কেন, যদি করতেই হয় এর ছোট বোন কে করো।

 ঢাকা টিটি কলেজ হতে ১৯৮৮-৮৯ সেশনে  বি-এড   উচ্চতর দ্বিতীয় বিভাগ পেয়ে শিক্ষকতা করতে থাকি। হাড়ীভাংগা বিদ্যালয়, মাজবাড়ি হুরুন্নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ,পাংশা বাহাদুরপুর উচ্চ বিদ্যালয় এ  চাকুরির পর  সরকারী অগ্রনী ব্যাংকে  চাকুরী হওয়ায় যোগ দেই চাকুরীতে ১৯৮৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর ফরিদপুর আঞ্চলিক কারযালয় ।আলহামদুলিল্লাহ সাড়ে বত্রিশ বছর চাকুরী জীবন ভালোই কেটেছে। 

অগ্রনী ব্যাংক ভাংগা শাখায় যাত্রা শুরু। তারপর রাজবাড়ী, আহ্লাদী পুর,নলিয়া জামাল পুর, কালুখালী, বোয়ালমারি, কুরমীটোলা ঢাকা, আঞ্চলিক কারযালয় মৌচাক  হতে অবসর গ্রহণ। 

২০২২ ইংরেজী সালের ৬ই জুন অবসর গ্রহণ চাকুরী হতে। তারপর চলছে দিন।

স্ত্রীর উদ্দেশ্যে কিছু কথা। 

 স্ত্রী খুব রাস ভারী মহিলা । সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব তার নিজেকেই নিতে হয়। সে সংসারের সব খেয়াল রাখে। বাবার সংসারে থাকাকালীন বড় মেয়ে হওয়াতে সংসারে অনেক কাজ মানে টাকার হিসাব ও বাজার নিয়ন্ত্রণ  করতো। এ সংসারে যাবতীয় দায়িত্ব তার নিজের কাঁধে পড়ায় আমার   সংসারের চিন্তা করতে হতো না। বাজার,সন্তানদের  লেখাপড়া সবকিছুই নিজ হাতে করত। এখনো করছে তাই। আর এ সুযোগে  বেশ কিছু সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছেন ।কিন্তু মেজাজ রুক্ষ হওয়ায় নিজের  দোষ ত্রুটিগুলো বুঝতে পারে না।  কার ও প্রতি রাগ হলে তার কষ্ট বা শাস্তি না দেখার আগে রাগ যায় না। বউমাদের কাছে জমির ব্যাপারে কি বলেছে এ নিয়ে বড়ো ভাইয়ের পরিবারের প্রতি তার রাগ। যার কারণে বিক্রি করা জমি লিখে দিতে অন্যায় ভাবে বাধা দিচ্ছে। এমন ঘটনা আমার সাথে বহুবার ঘটেছে। 

স্ত্রীর আগের কিছু স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে মনে পড়ে গেল ঃ-

১)  অফিসের স্যার কে সাথে করে একটি দামী শাড়ী কিনেছিলাম স্ত্রীর জন্য। স্ত্রী সেটি ফেরত দিয়ে নিজের পছন্দের শাড়ি  নিয়েছিল ১৯৯২ সালের দিকে। 

২) একবার লাউ ছুড়ে ফেলেছিল পাকা বলে। অবশ্য পরে তা রান্না করে ছিল।

৩) আর একবার ঝগড়া করে মাছ ফেলে দিয়েছিল। 

৪) আরও একবার কাচা সব্জি ভালো না বলে ছুড়ে ফেলেছিল। অবশ্য পরে তা রান্না করে ছিল। 

৫) আর একটা ঘটনা  স্ত্রীর বাবা চাউল এনে দিয়েছিল বাজার থেকে। বলেছিল বাবা না আনলে চাউল ফেরত দিতাম ভালো নয়।

৬)  ছেলের বউ মরিচ ব্লেন্ড করে রেখেছিল। এবং একটু খারাপ হয়ে গেছে দেখাতে গিয়ে আমার  গায়ে ছুড়ে মেরেছিল।

৭) আর একবার মাছ না এনে ডিম আনায় এক ডজন ডিম ফ্লোরে ছুড়ে ফেলেছিল। 

এভাবেই এখনো প্রতিদিন হাজার ও আপত্তির মধ্যেই চলছে দিন।

৮) তার অভিমত আমার উপর চাপানোই তার চরম সুখ।

সময় পেলে আরও কিছু বলব অন্যদিন। 

২২/০৯/২০২২ ইং তারিখ ঃ

  আমার রোজগারের টাকা খরচ করার পর হিসাব হয় খুব কড়া ভাবে। স্ত্রী  আগে হিসাব নিত  ভাই-বোন কে  দিয়ে দেই কিনা।     বা  আবার কোন বিয়ে করে ফেলে কিনা? এখন হিসাব ন্যায় ছোট ছেলে নেয় কিনা।   ছোট ছেলের দোকান থেকে কিছু কিনে খাওয়ার অভ্যাস, ক্ষুধা লাগলে সহ্য করতে পারে না। আজ বাজার করেছি ৪৩০/ টাকা। হিসাব খাতায় লেখা হয়েছে এবং অবশিষ্ট্য টাকা মিলিয়ে রাখা হয়েছে।

 এল পি আর ছুটি চলছে,  ইচ্ছা মত ঘুরে ফিরে ছুটি ভোগ করা যাবে না।বোকাসোকা মানুষ কোথায় আবার ধরা খায় কে জানে। তাই সব সময় স্ত্রী চোখে-চোখে রাখছে। আর এদিকে ছোট ছেলের প্রতি খেয়াল না রাখায় পড়াশোনা খারাপ হয়ে গেছে। তার শাসনে থাকায় আমাকে ভয় পায় না বা আমার কথা শুনতে চায় না।শসন করলে স্ত্রীর খারাপ লাগে।

বিয়ের পর   স্ত্রীর ব্যবহারের কারণে সম্ভবত প্রথম   ব্রেইন স্ট্রোক ১৯৮৫ সালে জানতে পারল দিতীয় ব্রেন স্ট্রোক ২০২৫ সালে হওয়ার পর ।

তারিখ -২৮/০৯/২০২২ ঃ-

 কিছু আপত্তি স্ত্রীর প্রতি -

১) উপার্জনের অর্থ খরচ স্ত্রীর হাতে হবে কেন? 

২) বাজার খরচের পর স্ত্রীকে হিসাব দিতে হবে কেন? 

৩) প্রভিডেন্ট ফান্ড এর বিভিন্ন সময়ে উত্তোলনের অর্থ এর ৩০ বছরের হিসাব স্ত্রীকে দিতে হবে।

৪) চুল পেকেছে বলে ছোট ছেলেকে নিয়ে স্কুলে যাওয়া যাবে না।বান্ধবীরা ভাববেন সেও বুড়ী হয়েছে। 

৫)  একা ভাইদের বাড়িতে যেতে পারবেনা। 

৬) স্ত্রীর বয়স বলা যাবে না । এমনকি ডাক্তার এর কাছে ও না।

৭)  ছেলেদের লেখা পড়ার সময়ে জমি বিক্রি করেছি তা স্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া লিখে দেওয়া যাবেনা। যা আমার  জন্য বেদনাদায়ক। 


০৯/ ০৯/২০২২ তারিখ ঃঃ-

স্ত্রীর আদেশ মোবাইল টিপা এবং বই পড়া যাবে না মাত্রাতিরিক্ত। 

১১/১০/২০২২ তারিখ ঃ-

সকালে বাজার শেষে হিসাব মিলছিল না। তার পর বেরসিকের স্ত্রী  চোটে গেল, বলল চাকরি যে ভাবে গোজামিল দিয়ে করেছ এখন ত সেভাবে গোজা মিল দিবা। যাক সব হিসাব শেষে যখন মিলল তখন আর কিছু বলল না।

বিকেলে ছেলেকে বলেছিল, বাসায় এসে কোচিং-এ যেতে হবে। কিন্তু কোচিং থেকে ফোন করে ছেলে বললো বাসায় আসবে না।বেরসিক বলল, আচ্ছা তোমার মাকে বলবো। তিনি নামাজ শেষে একচোট নিলেন বেরসিকের উপর। বলল আমি ত যাওয়ার সময় বলে দিয়েছি বাসায় এসে যেতে হবে, তুমি কেন আসতে বললে না।তার পর কথা বন্ধ।বেরসিক কে বলল তোমার সাথে আর পারছি না। বেরসিকের স্ত্রী লেখা-পড়া কম হলেও কথার চোট অনেক বেশী। বেরসিক স্ত্রীর চেয়ে ৪/৫ ক্লাস বেশী পড়েছে।

স্ত্রী বলে ও সব শিক্ষিতদের ভেলু দেই না। সে অনেকটা অশিক্ষিত লিডারদের মত। অথচ বেরসিক এই শিক্ষা নিয়ে ছত্রিশ বছর ভালো ভাবে চাকুরির মেয়াদ শেষ করেছে এবং স্ত্রী  তার সুফল ভোগ করছে /করবে।

তারিখ- ১৮/১০/২০২২
সকালে ঘুম থেকে উঠে হাতের ব্যথা অনুভব করায় মেঝছেলের উপর রাগ করে বলে আমার ভিসা এতো দেরি কেন? ছবি দিয়ে দাও আমার ভিসা আমিই করব।কারো লাগবে না।তারপর বেরসিক ভাত রান্নার সাদা চাউল ধুয়ে দিল। লাল চাউল ধুয়ে দিল না কেন সব ভাংচুর শুরু করে দিল।

তারিখ - ২১/১০/২০২২

ছেলে থাইল্যান্ড থেকে লাগেজ ব্ক্স নিয়ে আসে।তা মা পাওয়ার জন্য দাবী করে। কিন্তু স্ত্রী দিতে না চাওয়ায় মা অসন্তুষ্ট হয়ে আক্ষেপ করে। 

তারিখ - ২৭/১০/২০২২

  মুক্তভাবে একা কোথাও কাজে বা প্রয়োজনীয় কাজে যেতে দেওয়া হয় না।আজ স্ত্রির ভাগ্নীকে কম্বল দিতে যাওয়া দরকার কিন্তু স্ত্রী সাথে যাবেই। রাত হয়ে যাওয়ায় আর সফর বাতিল।আগামীকাল ছেলে বা বেরসিক যাবে কারণ আগামীকাল স্ত্রী দেশের বাড়ি যাবে। দেখা যাক কি হয়।

তারিখ -২২/১১/২০২২

  স্ত্রীর খামখেয়ালি মেজাজ, বলল দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাবে না এখন। ছেলের পরীক্ষার পর ইন্ডিয়া থেকে ঘুরে এসে রাকিবের কাছে যাবে। অথচ দাতের ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরী। 

তারিখ ০৪/১১/২০২৪

সকালে খাবার সময় বলল,আর লাগবে, বললাম, না।বলল,আমাকে কিছু দাও।তুলে দিলাম।পরক্ষনেই ভাত আমার দিকে ছুড়ে মারল।রাগ করলাম। মন খারাপ হল।

০৫/১১/২০২৪

সবজি বাজার পছন্দ হয়নি, তাই বরবটি ছুড়ে ফেলে দিল।এমন ঘটনা নতুন নয়।এর আগে চিচিঙ্গা, লাউ,শাড়ি, ডিম ইত্যাদি ছোড়াছুড়ি দেখার অভিজ্ঞতা আছে। তাছাড়া চোখ রাংগানি, কটুকথা অহরহ হয়ে থাকে। 

০৯/০৯/২০২৫

গতকাল বড় বউ মা ফোন দিয়ে তার শাশুড়ি কে কুশল বিনিময়ের সময় রান্না খাওয়া ও কাজ নিয়ে কথা বলে। কাজের লোক এর ও রান্নার কথায় বলে ফেলে আপনার কথায় রসকষ নাই।আরও এক বার বলে আপনার ত শোকর আদায়ের করেন না।আর এতেই শাশুড়ি কান্নাকাটি শুরু করে। তার কথা বউদের ভালো বাসার এই প্রতি দান।আরও একবার বলে ছিল সুখে থাকতে ভুতে কিলায়।সত্যিই কথা গুলো দু:খ জনক।এমনিতেই ছোট ছেলে নিয়ে মহা বিপাকে। ঠিক মত পড়াশোনা করে না, মোবাইল আসক্তি। ঘুম ও সাস্থ্যগত সমস্যায় টেনশনে। এ ভাবে না বললে ভালো হতো। 

((( বড় বউ মাকে একটি মোবাইল মেসেজ,  "ফোন দিয়ে তোমার  শাশুড়ি কে কুশল বিনিময়ের সময় রান্না খাওয়া ও কাজ নিয়ে কথা বলে। কাজের লোক এর ও রান্নার কথায় বলে ফেলে আপনার কথায়" রসকষ নাই"।আরও এক বার বলে "আপনি ত শোকর আদায়ের করেন না"।আর এতেই শাশুড়ি কান্নাকাটি শুরু করে। তার কথা বউদের ভালো বাসার এই প্রতি দান।আমি ওদের অনেক ভালো বাসি।অন্যান্য বউ শাশুড়ির চেয়ে আমরা কত ভালো আছি।আরও একবার বলে ছিল সুখে থাকতে ভুতে কিলায়।সত্যিই কথা গুলো দু:খ জনক।এমনিতেই নিজের শরীর খারাপ।ছোট ছেলে নিয়ে মহা বিপাকে।  ঠিক মত পড়াশোনা করে না, মোবাইল আসক্তি। ঘুম ও সাস্থ্যগত সমস্যায় টেনশনে। এ ভাবে না বললেই ভালো হতো মা।তোমার শশুর।")))

১২/০৯/২০২৫

বড় বউমাকে

আম্মু, তোমার মায়ের রাগ যাচ্ছে না।মাঝে মাঝেই মনে পড়লে কান্না করে।আমি বললাম, ওতো সরি বলছে। বলে যে ওতো আমাকে সরি বলে নাই। তুমি সুযোগ মত ক্ষমা চেয়ে নিও।ফোন দিও।দোয়া করো যাতে ভালো থাকি।

২৯/০৮/২০২৬

রাগে ক্ষোভে কথা বলে না। আমার শশুর ১৯৯২ সালে একটা ফ্যান কিনে দিয়ে ছিল আজ ও সেই খোটা দিল।

বাসায় আমার শশুর প্রতি মাসে লাকড়ি পাঠাত।তা ছাড়া নগদ টাকা দিত বলে আমার জানা নাই। চাকুরি করে যে টাকা পেতাম তা দিয়ে কষ্ট করে চলতাম। প্রায় ৩.৫০ লক্ষ টাকার জমি বিক্রি করি আমার নিজের ঢাকায় বাসা নেওয়ার পর থেকে । 

বাড়ির জমি স্ত্রীর নামে ১০ শতাংশ দিয়েছে।

বিয়ের পর দুই বছর আমার   সাথে ভালো ব্যবহার করে নাই। ওই সময়ে  প্রথম ব্রেইন স্ট্রোক হয়।

  শ্বশুর জানার পর স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়িতে পাঠায়।তখন থেকে জোড়া তালি দিয়ে সংসার চলতে থাকে। 

রুক্ষ মেজাজের বংশের মেয়ে। সন্তানদের  মানুষ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে এবং রাখছে ছেলেদের একটু কষ্ট হলেও । আলহামদুলিল্লাহ বড় দুই ছেলে চাকুরী করছে এবং ভালো আছে। তাই মানসিক ভাবে অনেক অনেক শান্তিতে আছি। 

  অফিসের দিন গুলো  ভালোই কেটেছে। এখন ছেলের স্কুল টাইম, প্রাভেট এই সময় গুলো ভালোই কাটছে। যেহেতু বাসার সব দায়িত্ব তার তাই না থাকলেও সমস্যা। কিন্তু বাড়ি চলে গেলে কোন সমস্যা হয় না।

২০/০৯/২০২৬

গতকাল রাতে বাকি বিল্লাহ এর সাথে কথা বলার সময় বাড়ির জমির হিসাবে বিক্রি করে ১৩.৫ শতাংশ আছে বলতেই ক্ষেপে গেল স্ত্রী। 

 ২১/০৯/২০২৬

২০/০৯/২০২৬ সকালে ছোট ছেলে প্রাইভেট পড়তে যায় কিন্তু স্যার না আসায় চলে আসা উচিৎ ছিল আসে নাই।বলেছে ওখানেই ছিল। ওর মা কান্না কাটি করে বলে কেন আমি সাথে গেলাম না, কেন তাকে ঘুম থেকে ডাকা হলো না, নিজে নিজের মরন কামনা করছিল।ওই সময় আমি আমিন বলে, বললাম মরন কামনা করা নিষেধ। ঈমান থাকে না।তারপর থেকে ছত্রিশ ঘন্টা কথা বলে না। যার প্রতি রাগ হয় তার শাস্তি না দেখা পরযন্ত রাগ কমে না। 

৩০/১০/২০২৬

স্ত্রী বাজার করতে বলল, টমেটো, ধনে পাতা,শসা, মরিচ, লাল চিড়া।

আনলাম, টমেটো, শসা, মরিচ, সাদা চিড়া। করকস ভাষায় বলল, পছন্দ মত বাজার করতে না পারলে ফ্যামিলি থেকে অবসর নিয়ে অন্য কোথাও চলে যাও।

গোপনীয় :-

বিক্রি করা জমির তথ্য:-

 মোঃ মন্তাজ (খালাত) ভাইয়ের নিকট ১১ শতাংশ, 

আঃ কুদ্দুসের নিকট  ১১ শতাংশ(৫.৬০ শতাংশ রেজিষ্ট্রেশন করে দেওয়া হয়েছে) ,

 মোঃ আশ্রাফের নিকট ৩৭৫০০০/ টাকা দরে ১৫০০০০/ টাকা (৮.৮০ শতাংশ) ।  জমি বিক্রি করা হয় ২০০৫-২০১০ সালে।

শুকুর আলী নিকট ১.৪০ শতাংশ যা বড় ভাই বিক্রি করেছে অনেক আগে।

 ১৯৯৭ সালে পারিবারিক জমি বিক্রয় করে ২৫০০০/ টাকা নেওয়া হয়, যা  ১০.০০ শতাংশ জমির বিনিময়ে।এর মধ্যে নিজের ২.০০ শতকের টাকা বাদ দিয়ে ৮.০০ শতাংশ লিখে দিতে হবে।  

  কোনো ক্ষেত্রেই বাড়ির জমি বিক্রি করা হয় নাই। বড় ভাইয়ের মতামত অগ্রাধিকার দিতে হবে পরকালের দায়মুক্তির জন্য। 

এদিকে স্ত্রীর ছোট ভাইকে এক লাখ (১,০০,০০০)টাকা জমি বাবদ দেওয়া যা পরে সে একবার বলেছে টাকা দিবে আবার বলেছে বাড়ির দক্ষিণ পাশের জমি দুই (২) শতাংশ দিবে।

বোন পিলিকে আট লাখ দশ হাজার( ৮,১০,০০০)টাকা দেওয়া পুকুরের সাত শতাংশ এবং চরের মাঠে পঞ্চান্ন (৫৫)শতকের মধ্যে ১৩.৭৫ শতাংশ বাবদ।

লিলি কে ৩২০,০০০ টাকা পঞ্চান্ন (৫৫)শতকের মধ্যে ১৩.৭৫ শতাংশ বাবদএবং ৭০০০০ টাকা ধার বাবদ দেওয়া অনেক দিন আগে(২০১৫_১৬ সালে)। 

এ ছাড়া ডলি কে জমি লিজ বাবদ সত্তর হাজার(৭০,০০০) টাকা দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাংক থেকে লোন করে এক লক্ষ টাকা দেওয়া আছে ।


১ মার্চ, ২০২২

আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ -কবিতাআল কুরআন,সুরা ইয়া‌ছিন~ ২ হ‌তে ৮৩ অবলম্ব‌নে)

 ‌লেখক ~ বের‌সিক

 (আল কুরআন,সুরা ইয়া‌ছিন~ ২ হ‌তে ৮৩ অবলম্ব‌নে)


পরম দাতা দয়ালু আল্লাহর না‌মে ।

জ্ঞানগর্ভ কুরআ‌নের কসম ক‌রে ,ব‌লেন র‌বে

 রাসুল তোমায় কিতাব দিলাম

 অসাবধানী‌দের বোঝা‌তে হ‌বে ।

২১ ফেব, ২০২২

আল্লাহর কোন নিয়ামত অস্বীকার করবে?

 (আল কুরআন সুরা আররহমান অবলম্বনে)

   পরম করুণাময় আল্লাহ মেহেরবান 

সৃষ্টি করে মানুষ আল্লাহ শিখালেন কুরআন।

শিখিয়ে কথা, দিয়ে সূর্য চন্দ্র, 

 দিয়েছেন দিবারাত্রি হিসাবের জ্ঞান। 

১৬ ফেব, ২০২২

রেজা ভাইয়ের বদলী জনিত বিদায়



আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহ মাতুল্লাহ

রেজা ভাইকে বিদায় জানাবার কান্না।

কত কথা আজ মনে পড়ে যায়

দীর্ঘ চাকুরী জীবনের ছায়ায় ।

Feartured Post

আমার কবিতা সমাহার

📖 আমার কবিতা সমাহার স্মৃতি • অনুভূতি • জীবনের কথা 💾 Save 🔖 Bookmark A− A+ 🌙 ডার্ক মোড 🖨️ Print ...

জনপ্রিয় পোস্ট