আমার কবিতা সমাহার
স্মৃতি • অনুভূতি • জীবনের কথা
১। বিজয় দিবস
(লেখক- মো: জালাল উদ্দিন ; ১৯৮৪ (ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ৮৮-৮৯ সেশনে প্রকাশিত))
হে খোদা! আমার সন্তানদের
তুমি সুখে রেখ,
ঘর ছেড়েছে যার তরে,
তাদের সে আশা পুরন করে
ফিরিয়ে দিও ঘরে।
এই ত মা তাদেরই হয়ে
আমি ফিরেছি তোমার ঘরে।
বাবা, কে তুমি? কি নাম তোমার? তোমার ছেলের রক্তে মাখা,
বিজয় দিবস ষোলই ডিসেম্বর।
২। প্রতিশ্রুতি
(লেখক- মো:জালাল উদ্দিন। ১৯৮৪-৮৫)
হে মহান স্বাধীনতা, তুমি বহু যুগের সাধনা,
শত মা-বোনের অশ্রুসিক্ত, বাষ্পাপ্লুত হ্রদয়ের বাসনা।
শত শহিদের রক্তে রাঙ্গিয়ে, উড়ায়ে রঙ্গিন পতাকা,
মুক্ত করেছ পরাধীনতা, হে মহান স্বাধীনতা।
তোমার শুভাগমনে, জাগিল মনে নতুন উদ্দীপনা ।
শত সহস্র প্রতিজ্ঞা মনে, অম্লান রাখিব তোমারে
হে মহান স্বাধীনতা।
৩। সুখের সন্ধানে
( বেরসিক,বেনামি ১৯৮৫ সন)
সুখের লাগিয়া হয়রান তুমি,
কোথায় পাবে সুখ?
আত্ন -তৃপ্তি অনুভবে
দেখবে সুখের মুখ।
অসীমের মাঝে তারে
খুঁজো নাকো প্রান পণে।
তার খোঁজে যেথা যাবে, শুধু ছায়া দেখতে পাবে আপন মনে।
অট্টালিকায় থাকে যে জন, মনে করো না, সুখি সে জন, অধিক পাওয়ার আশায় হয়তো অস্থির তার মন।
কুঁড়ে ঘরে থেকেও যদি সুখ পেতে চাও, যা চেয়েছ,আর যা পেয়েছ তাতেই তৃপ্ত হও।
৪। আশা
লেখক -বেরসিক সময়কাল১৯৮৪
৫। স্মৃতি
৬।দোযখের পানীয়
লেখক ~ বেরসিক৭। পুরষ্কার তিরস্কার
৮। বিচার দিনে
৯।কায়ান মনি
১০। আমার মা
আত্নীয়দের মধ্যে যত শ্রেষ্ঠ আমার মা,
মায়ের স্মৃতি কখনো যে ভুলতে পারিনা।
অতীত স্মৃতি মনে করে, হৃদয়ে মোর কাপন ধরে,
মা যে আমার কষ্ট করে তুলে রাখত খাবার ভরে,
স্কুল থেকে ঘরে ফিরে, ছেলে আমার খাবে কিরে?
আরো আগের কথা তো আর বলার মত নয়,
বয়স আমার দশ কি বারো মারা গেলেন বাবায়!
আটটি মোরা ভাইবোনে,
কষ্ট দিয়ে মায়ের মনে,
ক্ষেতের কাজ ফেলে রেখে,
স্কুলফিরে খেলতে গেছি মাঠে।
তিনটি আমার ভাই বোন, চলে গেল পরপারে!
মায়ের কত দুঃখ মনে, গড় গড়িয়ে অশ্রু ঝরে!
এখনকার সব মেয়েদের মত,
ক্লান্ত হতে দেখিনি তো।
এমন আমার শ্রেষ্ঠ 'মা' যে
চলে গেলেন ২০২০ ২২ শে মে।
আল্লাহ আমার মা-বাবারে,
সুখে রেখ কবরে।
১১। গুহাবাসী
(আল কুরআন, ১৮-আল কাহফ (১-১১) অবলম্বনে)
বিসমিল্লাহ বলে শুরু, সব প্রশংসা আল্লাহর,
যিনি বক্রতাহীন কুরআন দিয়েছেন প্রয়োজনে বান্দার।
যাতে রয়েছে বিপদ কাফেরের,মুমিনের উত্তম পুরস্কার,
কাফের জ্ঞানহীন, মিথ্যাবাদী বলে সন্তান আল্লাহর।
হে নবী (সঃ) তারা ঈমান না আনলে,
তোমার জীবন কি দিবে সংকটে ফেলে।
আমি তো সৌন্দর্য ময় যমীন দিয়ে,
পরীক্ষা করছি কে উত্তম আমলে?
এ মাটি কিয়ামতে করিব উদ্ভিদশূন্য খাটি,
আমার বিস্ময়কর নিদর্শন গুহাবাসী।
গুহায় আশ্রয়ী যুবকগণ বলে হে রব,
দান কর রহমত,পূর্ণ করো মোদের কাজকর্ম সব।
তারপর তাদের ঘুমিয়ে রাখলাম ৩০৯ বছর,
একটি কুকুর ও ছিল তাদের সহচর।
এ নিয়ে তর্ক করো না তারা ছিল ক'জন,
হে নবী, বল তা জানেন আমার আল্লাহ মহান।
১২। দুই আংগুরের বাগান
(আল কুরআন, সুরা ১৮-আল কাহফ ৩১-৪৪ অবলম্বনে)
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
-------
আল্লাহ বলেন,খেজুর গাছে ঘেরা দু'টি আংগুর বাগান
পানির নহর দিয়ে তাতে করেছি ফল উৎপাদন।
গরিব বাগান মালিকেরে অহংকারে বলে,
ধনে-জনে শক্তিশালী আমি,তোমাকে পিছনে ফেলে।
আমার এ বাগান কখনো না ধংস হবে,
আমি মনে করি না কখনো কিয়ামত সংঘটিবে।
তার সাথী তাকে বলে,যে আল্লাহ সৃজিয়াছেন তোমায়,
মাটি,শুক্রানু হতে মানুষরুপে তাকে ভুলে গেলে হায়।
তিনিই আল্লাহ, আমার রব আমি ভুলি নাই তাকে,
শরীক করি না তার সাথে কোন কিছুকে।
"মাশা আল্লাহ" বললে না যে, বাগানে প্রবেশ কালে,
যে কারনে বাগানের ফলকে বিপর্যয়ে ঘিরে ফেলে,
অহংকারী বলল হায়, হল সর্বনাশ আমার,
বুঝেছি সব কর্তৃত্ব সব কিছু সত্যবাদী আল্লাহর।
১৩। দুনিয়া ও পরকাল
রুহ আল্লাহর হুকুম দুনিয়ায় মানব দেহ রুপে,
মৃত্যুর সাথে যায় পরকালে, দেহ দেই মটিতে সপে।
মৃত্যু মোদেরে আড়াল করে আছে এহকাল পরকাল,
এটাই কি পরীক্ষা? পরকালে কি আছে ফলাফল?
জীবন মৃতু সৃষ্টি করে পরীক্ষা নিচ্ছেন আল্লাহ।
তাই তো খুঁজে নিয়ে ভালো কাজের দিতে হবে পাল্লা।