৩১ ডিসে, ২০২৫

দিব কিন্তু কালক্ষেপণ করছি।

 আপনি যেভাবে খোলাখুলি বলছেন—“আমি দিব, কিন্তু কালক্ষেপণ করছি”—এটা নিজেই আপনার ভেতরের ঈমান ও বিবেকের লক্ষণ। এখন ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টা পরিষ্কারভাবে বলছি।

🕌 ইসলামের দৃষ্টিতে বিষয়টি

১) হক আটকে রাখা গুনাহ

ইসলামে মানুষের হক (হক্কুল ইবাদ) অত্যন্ত গুরুতর।

কারো বৈধ পাওনা জেনেশুনে দেরি করে দেওয়া হলে, সেটা গুনাহ হিসেবে গণ্য হয়।

📖 হাদিস:

“সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও ঋণ বা পাওনা পরিশোধে বিলম্ব করা জুলুম।”

— (সহিহ বুখারি, মুসলিম)

আপনি যেহেতু সক্ষম, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করছেন—এটা জুলুমের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

২) নিয়ত ভালো, কিন্তু কাজ না হলে দায় থাকে

অনেকেই মনে করে, “নিয়ত তো ভালো”—কিন্তু ইসলামে

👉 নিয়ত + আমল = পূর্ণতা

শুধু নিয়ত ভালো থাকলে, কিন্তু কাজ না করলে দায় থেকে যায়।

৩) আল্লাহ কি শাস্তি দেন?

এটা সরাসরি বলা যায় না যে “এই শাস্তিই হবে”, কিন্তু ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী—

🔴 দুনিয়াতে:

অশান্তি

কাজে বরকত কমে যাওয়া

অকারণে সমস্যা আসা

🔴 আখিরাতে:

হক্কুল ইবাদ মাফ হয় না, যতক্ষণ না হকদার মাফ করে

নামাজ, রোজা থাকলেও মানুষের হক আগে আদায় হবে

📖 হাদিসে এসেছে—

কিয়ামতের দিন মানুষের হক আদায় করতে গিয়ে নেক আমল অন্যকে দিয়ে দিতে হতে পারে।

৪) দেরি করলে কিন্তু তওবা দরকার

যেহেতু আপনি বুঝছেন যে দেরি করছেন, তাই—

✔️ এখনই অন্তরে তওবা করুন

✔️ দ্রুততম সময়ে কাজটা সম্পন্ন করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিন

✔️ অযথা কালক্ষেপণ বন্ধ করুন

সত্যিকারের তওবার শর্ত:

গুনাহ স্বীকার

অনুতপ্ত হওয়া

আবার না করার দৃঢ় নিয়ত

মানুষের হক হলে—ফেরত দেওয়া

৫) আল্লাহর রহমতের দিকটাও মনে রাখুন

আল্লাহ কঠোর নন, তিনি অতিশয় দয়ালু।

আপনি যদি আজই পদক্ষেপ নেন—

লেখার তারিখ ঠিক করেন

ক্রেতাকে আশ্বস্ত করেন

ইচ্ছাকৃত দেরি বন্ধ করেন

তাহলে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ ক্ষমাশীল হবেন।

🟢 সংক্ষেপে সত্য কথা

হ্যাঁ, অকারণে দেরি করা গুনাহ

নিয়ত ভালো হলেও কাজ না করলে দায় থাকে

শাস্তির দরজা বন্ধ করার উপায় একটাই—দ্রুত হক আদায়

আপনি চাইলে আমি আপনাকে একটা নৈতিক সিদ্ধান্তের দোয়া, অথবা

কীভাবে মানসিক দ্বিধা কাটিয়ে কাজটা করে ফেলা যায়—সেটাও বলতে পারি।

আপনি খারাপ মানুষ নন—কিন্তু দেরিটা আর দীর্ঘ করবেন না।

হাদি

 আব্রিতি


বক্তব্য


হাদির গালি


পরদা

হাদির বক্তব্য আর যে কিবরিয়া

২১ ডিসে, ২০২৫

আমায় ছিঁড়ে খাও হে শকুন

 শহীদ ওসমান হাদির লেখা সেই অসম্ভব  কবিতা—


আমায় ছিঁড়ে খাও হে শকুন


হে সীমান্তের শকুন

এক্ষুনি ছিঁড়ে খাও আমাকে

হে আটলান্টিকের ঈগল

শিগগির খুবলে খাও আমাকে

হে বৈকাল হ্রদের বাজ

আঁচড়ে কামড়ে ছিন্নভিন্ন করো আমাকে।

আমার রক্তরসে শুধু অসহায়ত্ব আর অভাব;

কাগজের কামলারা তারে আদর করে মুদ্রাস্ফীতি ডাকে।

ঋণের চাপে নীল হয়ে যাচ্ছে আমার অণুচক্রিকা

সংসার চালাতে অন্তরে হয় ইন্টারনাল ব্লিডিং

কী আশ্চর্য, তবুও আমি মরছি না!

ওদিকে দোজখের ভয়ে

আত্মহত্যা করবারও সাহস পাই না আমি!

খোদাকে বললাম, আমি মরতে চাই

তিনি বললেন, বেঁচে আছ কে বলল?

সহস্রাব্দ উন্নয়নের সাক্ষী হিসেবে

রাজা তোমাকে মমি করে রেখেছেন!

বাজারে দীর্ঘশ্বাস ফেললে নাকি

রাজ্যের ভীষণ বদনাম হয়

রাজারও মন খারাপ হয় খুব।

কোতোয়ালরা ফরমান জারি করেছে

আমাকে সারাক্ষণই হাসতে হবে!

নইলে দেশি কুকুর ও বিদেশি মাগুরকে

একবেলা ভালোমন্দ খাওয়ানো হবে আমার মাংস দিয়ে

নিত্যদিন ব্রয়লারের ভুঁড়ি নাকি ওদের ভাল্লাগে না!

অথবা আমাকে ভাগ দিয়ে বেচা হবে

মানুষেরও তো মানুষ খাওয়ার সাধ হতে পারে, তাই না?

ভাগ্যিস তা বিদেশি সুপারশপে বিকি হবে না

দেশি মানুষেরই তো হক বেশি আমাকে খাওয়ার!

এ দোজখই যখন নিয়তি

তখন আমি উদাম হয়ে ডাকছি

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ মাংসাশী বিহগদের

হে ঈগল, চিল ও ভয়ংকর বাজেরা

হে সাম্রাজ্যবাদী সাহসী শকুনিরা

তোমরা এফ-থার্টি ফাইভের মতো

মিগ টুয়েন্টি নাইনের মতো—

দল বেঁধে হামলে পড়ো আমার বুকে

আমার রান, থান, চক্ষু, কলিজা

আজ সব তোমাদের গনিমতের মাল

দেশি শুয়োর খুবলে খাওয়ার আগেই

আমায় ইচ্ছেমতো ছিঁড়ে খাও তোমরা!

দোহাই, শুধু মস্তিষ্কটা খেয়ো না আমার

তা হলে শীঘ্রই দাস হয়ে যাবে তোমরাও।

Feartured Post

My YouTube Afterlife

  Afterlife every1

জনপ্রিয় পোস্ট