৩০ মার্চ, ২০২২

প্রীতি উপহার

 শ্রদ্ধেয়া হাসিনা আপা,

প্রিয় রাবেয়া আপা

আপনার উপহার খুবই মজার

বেড়েছে  উচ্ছাস কয়েক হাজার।

স্মৃতিতে থাকবেন যতদিন যাবে,

২৩ মার্চ, ২০২২

Sura Bakara 240-286

(2:240) 

বিধবাদের এক বছর কর ভরণ পোষণ ,

তার পর তোমাদের নাই চিন্তার কারন। 

স্বামীদের উচিত করে যাওয়া অসিয়ত,

আল্লাহ ক্ষ্মতাশালী ,বিজ্ঞ ও মহৎ । 

১৫ মার্চ, ২০২২

Sura Bakara 2-62

 ২-বাক্বারা ১-৬২

  পরম করুণাময় মেহেরবান আল্লাহর নামে।

  আলিফ লাম মীম।পড়িলাম মনে মনে। 

    এটি সন্দেহহীন  আল্লাহর কিতাব,   ‘মুত্তাকী’দের হিদায়েত,

    অদৃশ্যে বিশ্বাসী , নামায কায়েম কারি,  রিযিক  খরচে নয় কৃপণ, পাবে নবীর সাফায়েত ।

এ কিতাব ও আগের কিতাবে ঈমান আনে, আখেরাতে বিশ্বাসী,

এরাই সত্য ও কল্যান লাভের  অধীকারী।

অনুবাদ:    যেসব লোক (একথাগুলো মেনে নিতে) অস্বীকার করেছে, তাদের জন্য সমান – তোমরা তাদের সতর্ক করো বা না করো, তারা মেনে নেবে না।

(2:7)

অনুবাদ:    আল্লাহ তাদের হৃদয়ে ও কানে মোহর মেরে দিয়েছেন। এবং তাদের চোখের ওপর আবরণ পড়ে গেছে। তারা কঠিন শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।

(2:8)

অনুবাদ:    কিছু লোক এমনও আছে যারা বলে, আমরা আল্লাহর ওপর ও আখেরাতের দিনের ওপর ঈমান এনেছি, অথচ আসলে তারা মু’মিন নয়।

(2:9)

অনুবাদ:    তারা আল্লাহর সাথে ও যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে ধোঁকাবাজি করছে। কিন্তু আসলে তারা নিজেদেরকেই প্রতারণা করছে, তবে তারা এ ব্যাপারে সচেতন নয়।

(2:10)

অনুবাদ:    তাদের হৃদয়ে আছে একটি রোগ, আল্লাহ‌ সে রোগ আরো বেশী বাড়িয়ে দিয়েছেন, আর যে মিথ্যা তারা বলে তার বিনিময়ে তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

(2:11)

অনুবাদ:    যখনই তাদের বলা হয়েছে, যমীনে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করো না, তারা একথাই বলেছে, আমরা তো সংশোধনকারী।

(2:12)

অনুবাদ:    সাবধান! এরাই ফাসাদ সৃষ্টিকারী, তবে তারা এ ব্যাপারে সচেতন নয়।

(2:13)

অনুবাদ:    আর যখন তাদের বলা হয়েছে, অন্য লোকেরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আনো তখন তারা এ জবাবই দিয়েছে- আমরা কি ঈমান আনবো নির্বোধদের মতো? সাবধান! আসলে এরাই নির্বোধ, কিন্তু এরা জানে না।

(2:14)

অনুবাদ:    যখন এরা মু’মিনদের সাথে মিলিত হয়, বলেঃ “আমরা ঈমান এনেছি”, আবার যখন নিরিবিলিতে নিজেদের শয়তানদের সাথে মিলিত হয় তখন বলেঃ “আমরা তো আসলে তোমাদের সাথেই আছি আর ওদের সাথে তো নিছক তামাশা করছি।”

(2:15)

অনুবাদ:    আল্লাহ এদের সাথে তামাশা করছেন, এদের রশি দীর্ঘায়িত বা ঢিল দিয়ে যাচ্ছেন এবং এরা নিজেদের আল্লাহদ্রোহিতার মধ্যে অন্ধের মতো পথ হাতড়ে মরছে।

(2:16)

অনুবাদ:    এরাই হিদায়াতের বিনিময়ে গোমরাহী কিনে নিয়েছে, কিন্তু এ সওদাটি তাদের জন্য লাভজনক নয় এবং এরা মোটেই সঠিক পথে অবস্থান করছে না।

(2:17)

অনুবাদ:    এদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে, যেমন এক ব্যক্তি আগুন জ্বালালো এবং যখনই সেই আগুন চারপাশ আলোকিত করলো তখন আল্লাহ‌ তাদের দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিলেন এবং তাদের ছেড়ে দিলেন এমন অবস্থায় যখন অন্ধকারের মধ্যে তারা কিছুই দেখতে পাচ্ছিল না।

(2:18)

অনুবাদ:    তারা কালা, বোবা, অন্ধ। তারা আর ফিরে আসবে না।

(2:19)

অনুবাদ:    অথবা এদের দৃষ্টান্ত এমন যে, আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। তার সাথে আছে অন্ধকার মেঘমালা, বজ্রের গর্জন ও বিদ্যুৎ চমক। বজ্রপাতের আওয়াজ শুনে নিজেদের প্রাণের ভয়ে এরা কানে আঙুল ঢুকিয়ে দেয়। আল্লাহ‌ এ সত্য অস্বীকারকারীদেরকে সবদিক দিয়ে ঘিরে রেখেছেন।

(2:20)

অনুবাদ:    বিদ্যুৎ চমকে তাদের অবস্থা এই দাঁড়িয়েছে যেন বিদ্যুৎ শীগ্‌গির তাদের দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেবে। যখন সামান্য একটু আলো তারা অনুভব করে তখন তার মধ্যে তারা কিছুদূর চলে এবং যখন তাদের ওপর অন্ধকার ছেয়ে যায় তারা দাঁড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ চাইলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি একেবারেই কেড়ে নিতে পারতেন। নিঃসন্দেহে তিনি সবকিছুর ওপর শক্তিশালী

(2:21)

অনুবাদ:    হে মানব জাতি। ইবাদাত করো তোমাদের রবের, যিনি তোমাদের ও তোমাদের পূর্বে যারা অতিক্রান্ত হয়েছে তাদের সবার সৃষ্টিকর্তা, এভাবেই তোমরা নিষ্কৃতি লাভের আশা করতে পারো।

(2:22)

অনুবাদ:    তিনিই তোমাদের জন্য মাটির শয্যা বিছিয়েছেন, আকাশের ছাদ তৈরি করেছেন, ওপর থেকে পানি বর্ষণ করেছেন এবং তার সাহায্যে সব রকমের ফসলাদি উৎপন্ন করে তোমাদের আহার যুগিয়েছেন। কাজেই একথা জানার পর তোমরা অন্যদেরকে আল্লাহর প্রতিপক্ষে পরিণত করো না।

(2:23)

অনুবাদ:    আর যে কিতাবটি আমি আমার বান্দার ওপর নাযিল করেছি সেটি আমার কিনা- এ ব্যাপারে যদি তোমরা সন্দেহ পোষণ করে থাকো তাহলে তার মতো একটি সূরা তৈরি করে আনো এবং নিজেদের সমস্ত সমর্থক গোষ্ঠীকে ডেকে আনো – এক আল্লাহকে ছাড়া আর যার যার চাও তার সাহায্য নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে এ কাজটি করে দেখাও।

(2:24)



অনুবাদ:    কিন্তু যদি তোমরা এমনটি না করো আর নিঃসন্দেহে কখনই তোমরা এটা করতে পারবে না, তাহলে ভয় করো সেই আগুনকে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যা তৈরি রাখা হয়েছে সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য।

(2:25)

অনুবাদ:    আর হে নবী, যারা এ কিতাবের ওপর ঈমান আনবে এবং (এর বিধান অনুযায়ী) নিজেদের কার্যধারা সংশোধন করে নেবে তাদেরকে এ মর্মে সুখবর দাও যে, তাদের জন্য এমন সব বাগান আছে যার নিম্নদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে ঝর্ণাধারা। সেই বাগানের ফল দেখতে দুনিয়ার ফলের মতই হবে। যখন কোন ফল তাদের দেয়া হবে খাবার জন্য, তারা বলে উঠবেঃ এ ধরনের ফলই ইতিপূর্বে দুনিয়ায় আমাদের দেয়া হতো। তাদের জন্য সেখানে থাকবে পাক-পবিত্র স্ত্রীগণ এবং তারা সেখানে থাকবে চিরকাল।

(2:26)

অনুবাদ:    অবশ্য আল্লাহ‌ লজ্জা করেন না মশা বা তার চেয়ে তুচ্ছ কোন জিনিসের দৃষ্টান্ত দিতে। যারা সত্য গ্রহণকারী তারা এ দৃষ্টান্ত –উপমাগুলো দেখে জানতে পারে এগুলো সত্য, এগুলো এসেছে তাদের রবেরই পক্ষ থেকে, আর যারা (সত্যকে) গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয় তারা এগুলো শুনে বলতে থাকে, এ ধরনের দৃষ্টান্ত –উপমার সাথে আল্লাহর কী সম্পর্ক? এভাবে আল্লাহ‌ একই কথার সাহায্যে অনেককে গোমরাহীতে লিপ্ত করেন আবার অনেককে দেখান সরল সোজা পথ।

(2:27)

অনুবাদ:    আর তিনি গোমরাহীর মধ্যে তাদেরকেই নিক্ষেপ করেন যারা ফাসেক, যারা আল্লাহর সাথে মজবুতভাবে অঙ্গীকার করার পর আবার তা ভেঙ্গে ফেলে, আল্লাহ যাকে জোড়ার হুকুম দিয়েছেন তাকে কেটে ফেলে এবং যমীনে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে চলে। আসলে এরাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত।

(2:28)

অনুবাদ:    তোমরা আল্লাহর সাথে কেমন করে কুফরীর আচরণ করতে পারো। অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন, তিনি তোমাদের জীবন দান করেছেন। অতঃপর তিনি তোমাদের প্রাণ হরণ করবেন এবং অতঃপর তিনি তোমাদের জীবন দান করবেন। তারপর তাঁরই দিকে তোমাদের ফিরে যেতে হবে।

(2:29)

অনুবাদ:    তিনিই পৃথিবীতে তোমাদের জন্য সমস্ত জিনিস সৃষ্টি করলেন। তারপর ওপরের দিকে লক্ষ করলেন এবং সাত আকাশ বিন্যস্ত করলেন তিনি সব জিনিসের জ্ঞান রাখেন।

(2:30)

অনুবাদ:    আবার সেই সময়ের কথা একটু স্মরণ কর যখন তোমাদের রব ফেরেশতাদের বলেছিলেন, “আমি পৃথিবীতে একজন খলীফা- প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে চাই।” তারা বললো, “আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে নিযুক্ত করতে চান যে সেখানকার ব্যবস্থাপনাকে বিপর্যস্থ করবে এবং রক্তপাত করবে? আপনার প্রশংসা ও স্তুতিসহকারে তাসবীহ পাঠ এবং আপনার পবিত্রতা বর্ণনা তো আমরা করেই যাচ্ছি।” আল্লাহ বললেন, “আমি জানি যা তোমরা জানো না।”

(2:31)

অনুবাদ:    অতঃপর আল্লাহ‌ আদমকে সমস্ত জিনিসের নাম শেখালেন তারপর সেগুলো পেশ করলেন ফেরেশতাদের সামনে এবং বললেন, “যদি তোমাদের ধারণা সঠিক হয় (অর্থাৎ কোন প্রতিনিধি নিযুক্ত করলে ব্যবস্থাপনা বিপর্যস্ত হবে) তাহলে একটু বলতো দেখি এই জিনিসগুলোর নাম?”

(2:32

অনুবাদ:    তারা বললোঃ “ত্রুটিমুক্ত তো একমাত্র আপনারই সত্তা, আমরা তো মাত্র ততটুকু জ্ঞান রাখি যতটুকু আপনি আমাদের দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে আপনি ছাড়া আর এমন কোন সত্তা নেই যিনি সবকিছু জানেন ও সবকিছু বোঝেন।”

(2:33)

অনুবাদ:    তখন আল্লাহ‌ আদমকে বললেন, “তুমি ওদেরকে এই জিনিসগুলোর নাম বলে দাও।”যখন সে তাদেরকে সেসবের নাম জানিয়ে দিল তখন আল্লাহ‌ বললেনঃ “আমি না তোমাদের বলেছিলাম, আমি আকাশ ও পৃথিবীর এমন সমস্ত নিগূঢ় তত্ত্ব জানি যা তোমাদের অগোচরে রয়ে গেছে? যা কিছু তোমরা প্রকাশ করে থাকো তা আমি জানি এবং যা কিছু তোমরা গোপন করো তাও আমি জানি।”

(2:34)

অনুবাদ:    তারপর যখন ফেরেশতাদের হুকুম দিলাম, আদমের সামনে নত হও, তখন সবাই অবনত হলো, কিন্তু ইবলিস অস্বীকার করলো। সে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারে মেতে উঠলো এবং নাফরমানদের অন্তর্ভুক্ত হলো।

(2:35)

অনুবাদ:    তখন আমরা আদমকে বললাম, “তুমি ও তোমার স্ত্রী উভয়েই জান্নাতে থাকো এবং এখানে স্বাচ্ছন্দের সাথে ইচ্ছে মতো খেতে থাকো, তবে এই গাছটির কাছে যেয়ো না। অন্যথায় তোমরা দু’জন যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।”

(2:36)

অনুবাদ:    শেষ পর্যন্ত শয়তান তাদেরকে সেই গাছটির লোভ দেখিয়ে আমার হুকুমের আনুগত্য থেকে সরিয়ে দিল এবং যে অবস্থার মধ্যে তারা ছিল তা থেকে তাদেরকে বের করে ছাড়লো। আমি আদেশ করলাম, “এখন তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। তোমাদের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পৃথিবীতে অবস্থান করতে ও জীবন অতিবাহিত করতে হবে।”

(2:37)

অনুবাদ:    তখন আদম তার রবের কাছ থেকে কয়েকটি বাক্য শিখে নিয়ে তাওবা করলো। তার রব তার এই তাওবা কবুল করে নিলেন। কারণ তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহকারী।

(2:38)

অনুবাদ:    আমরা বললাম, “তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। এরপর যখন আমার পক্ষ থেকে কোন হিদায়াত তোমাদের কাছে পৌঁছুবে তখন যারা আমার সেই হিদায়াতের অনুসরণ করবে তাদের জন্য থাকবে না কোন ভয় দুঃখ বেদনা।

(2:39)

অনুবাদ:    আর যারা একে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাবে এবং আমার আয়াতকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেবে তারা হবে আগুনের মধ্যে প্রবেশকারী। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল।”

(2:40)

অনুবাদ:    হে বনী ইসরাঈল। আমার সেই নিয়ামতের কথা মনে করো, যা আমি তোমাদের দান করেছিলাম, আমার সাথে তোমাদের যে অঙ্গীকার ছিল, তা পূর্ণ করো, তা হলে তোমাদের সাথে আমার যে অঙ্গীকার ছিল, তা আমি পূর্ণ করবো এবং তোমরা একমাত্র আমাকেই ভয় করো।

(2:41)

অনুবাদ:    আর আমি যে কিতাব পাঠিয়েছি তার ওপর ঈমান আন। তোমাদের কাছে আগে থেকেই যে কিতাব ছিল এটি তার সত্যতা সমর্থনকারী। কাজেই সবার আগে তোমরাই এর অস্বীকারকারী হয়ো না। সামান্য দামে আমার আয়াত বিক্রি করো না। আমার গযব থেকে আত্মরক্ষা করো।

(2:42)

অনুবাদ:    মিথ্যার রঙে রাঙিয়ে সত্যকে সন্দেহযুক্ত করো না এবং জেনে বুঝে সত্যকে গোপন করার চেষ্টা করো না।

(2:43)

অনুবাদ:    নামায কায়েম করো, যাকাত দাও এবং যারা আমার সামনে অবনত হচ্ছে তাদের সাথে তোমরাও অবনত হও।

(2:44)

অনুবাদ:    তোমরা অন্যদের সৎকর্মশীলতার পথ অবলম্বন করতে বলো কিন্তু নিজেদের কথা ভুলে যাও। অথচ তোমরা কিতাব পাঠ করে থাকো। তোমরা কি জ্ঞান বুদ্ধি একটুও কাজে লাগাও না?

(2:45)

অনুবাদ:    সবর ও নামায সহকারে সাহায্য নাও। নিঃসন্দেহে নামায বড়ই কঠিন কাজ, কিন্তু সেসব অনুগত বান্দাদের জন্য কঠিন নয়।

(2:46)

অনুবাদ:    যারা মনে করে, সবশেষে তাদের মিলতে হবে তাদের রবের সাথে এবং তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে।

(2:47)

অনুবাদ:    হে বনী ইসরাঈল! আমার সেই নিয়ামতের কথা স্মরণ করো, যা আমি তোমাদের দান করেছিলাম এবং একথাটিও যে, আমি দুনিয়ার সমস্ত জাতিদের ওপর তোমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম।

(2:48)

অনুবাদ:    আর ভয় করো সেই দিনকে যেদিন কেউ কারো সামান্যতমও কাজে লাগবে না, কারো পক্ষ থেকে সুপারিশ গৃহীত হবে না, বিনিময় নিয়ে কাউকে ছেড়ে দেয়া হবে না এবং অপরাধীরা কোথাও থেকে সাহায্য লাভ করতে পারবে না।

(2:49)

অনুবাদ:    স্মরণ করো সেই সময়ের কথা যখন আমরা ফেরাউনী দলের দাসত্ব থেকে তোমাদের মুক্তি দিয়েছিলাম। তারা তোমাদের কঠিন যন্ত্রণায় নিমজ্জিত করে রেখেছিল, তোমাদের পুত্র সন্তানদের যবেহ করতো এবং তোমাদের কন্যা সন্তানদের জীবিত রেখে দিতো। মূলত এ অবস্থায় তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য বড় কঠিন পরীক্ষা ছিল।

(2:50)

অনুবাদ:    স্মরণ করো সেই সময়ের কথা যখন আমরা সাগর চিরে তোমাদের জন্য পথ করে দিয়েছিলাম, তারপর তার মধ্য দিয়ে তোমাদের নির্বিঘ্নে পার করে দিয়েছিলাম, আবার সেখানে তোমাদের চোখের সামনেই ফেরাউনী দলকে সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।

(2:51)

অনুবাদ:    স্মরণ করো সেই সময়ের কথা যখন আমরা মূসাকে চল্লিশ দিন-রাত্রির জন্য ডেকে নিয়েছিলাম, তখন তার অনুপস্থিতিতে তোমরা বাছুরকে নিজেদের উপাস্যে পরিণত করেছিল। সে সময় তোমরা অত্যন্ত বাড়াবাড়ি করেছিলে।

(2:52)

অনুবাদ:    কিন্তু এরপরও আমরা তোমাদের মাফ করে দিয়েছিলাম এ জন্য যে, হয়তো এবার তোমরা কৃতজ্ঞ হবে।

(2:53)

অনুবাদ:    স্মরণ করো (ঠিক যখন তোমরা এই যুলুম করছিলে সে সময়) আমরা মূসাকে কিতাব ও ফুরকান দিয়েছিলাম, যাতে তার মাধ্যমে তোমরা সোজা পথ পেতে পারো।

(2:54)

অনুবাদ:    স্মরণ করো যখন মূসা(এই নিয়ামত নিয়ে ফিরে এসে) নিজের জাতিকে বললো, “হে লোকেরা! তোমরা বাছুরকে উপাস্য বানিয়ে নিজেদের ওপর বড়ই যুলুম করেছো, কাজেই তোমরা নিজেদের স্রষ্টার কাছে তাওবা করো এবং নিজেদেরকে হত্যা করো, এরই মধ্যে তোমাদের স্রষ্টার কাছে তোমাদের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। সে সময় তোমাদের স্রষ্টা তোমাদের তাওবা কবুল করে নিয়েছিলেন, কারণ তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহকারী।

(2:55)

অনুবাদ:    স্মরণ করো, যখন তোমরা মূসাকে বলেছিলে, “আমরা কখনো তোমার কথায় বিশ্বাস করবো না, যতক্ষণ না আমরা স্বচক্ষে আল্লাহকে তোমার সাথে প্রকাশ্যে (কথা বলতে) দেখবো।” সে সময় তোমাদের চোখের সামনে তোমাদের ওপর একটি ভয়াবহ বজ্রপাত হলো, তোমরা নিস্প্রাণ হয়ে পড়ে গেলে।

(2:56)

অনুবাদ:    কিন্তু আবার আমরা তোমাদের বাঁচিয়ে জীবিত করলাম, হয়তো এ অনুগ্রহের পর তোমরা কৃতজ্ঞ হবে।

(2:57)

অনুবাদ:    আমরা তোমাদের ওপর মেঘমালার ছায়া দান করলাম, তোমাদের জন্য সরবরাহ করলাম মান্না ও সালওয়ার খাদ্য এবং তোমাদের বললাম, যে পবিত্র দ্রব্য-সামগ্রী আমরা তোমাদের দিয়েছি তা থেকে খাও। কিন্তু তোমাদের পূর্বপুরুষরা যা কিছু করেছে তা আমাদের ওপর যুলুম ছিল না বরং তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর যুলুম করেছে।

(2:58)

    আরো স্মরণ করো যখন আমরা বলেছিলাম, “তোমাদের সামনের এই জনপদে প্রবেশ করো এবং সেখানকার উৎপন্ন দ্রব্যাদি যেমন ইচ্ছা খাও মজা করে। কিন্তু জনপদের দুয়ারে সিজদাবনত হয়ে প্রবেশ করবে ‘হিত্তাতুন’ ‘হিত্তাতুন’ বলতে বলতে। আমরা তোমাদের ত্রুটিগুলো মাফ করে দেবো এবং সৎকর্মশীলদের প্রতি অত্যধিক অনুগ্রহ করবো।”

(2:59)

  কিন্তু যে কথা বলা হয়েছিল যালেমরা তাকে বদলে অন্য কিছু করে ফেললো। শেষ পর্যন্ত যুলুমকারীদের ওপর আমরা আকাশ থেকে আযাব নাযিল করলাম। এ ছিল তারা যে নাফরমানি করছিল তার শাস্তি।

(2:60)

   স্মরণ করো, যখন মূসা তার জাতির জন্য পানির দোয়া করলো, তখন আমরা বললাম, অমুক পাথরের ওপর তোমার লাঠিটি মারো। এর ফলে সেখান থেকে বারোটি ঝর্ণাধারা উৎসারিত হলো। প্রত্যেক গোত্র তার পানি গ্রহণের স্থান জেনে নিল। (সে সময় এ নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, ) আল্লাহ‌ প্রদত্ত রিযিক খাও, পান করো এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না।

(2:61)

   স্মরণ করো, যখন তোমরা বলেছিলে, “হে মূসা! আমরা একই ধরনের খাবারের ওপর সবর করতে পারি না, তোমার রবের কাছে দোয়া করো যেন তিনি আমাদের জন্য শাক-সব্জি, গম, রসুন, পেঁয়াজ, ডাল ইত্যাদি কৃষিজাত দ্রব্যাদি উৎপন্ন করেন।” তখন মূসা বলেছিল, “তোমরা কি একটি উৎকৃষ্ট জিনিসের পরিবর্তে নিকৃষ্ট জিনিস নিতে চাও? তাহলে তোমরা কোন নগরে গিয়ে বসবাস করো, তোমরা যা কিছু চাও সেখানে পেয়ে যাবে।” অবশেষে অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছলো যার ফলে লাঞ্ছনা, অধঃপতন, দুরবস্থা ও অনটন তাদের ওপর চেপে বসলো এবং আল্লাহর গযব তাদেরকে ঘিরে ফেললো। এ ছিল তাদের আল্লাহর আয়াতের সাথে কুফরী করার এবং পয়গম্বরদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার ফল। এটি ছিল তাদের নাফরমানির এবং শরীয়াতের সীমালংঘনের ফল।

(2:62)

   নিশ্চিতভাবে জেনে রেখো, যারা শেষ নবীর প্রতি ঈমান আনে কিংবা ইহুদি, খৃষ্টান বা সাবি তাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তিই আল্লাহ‌ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনবে এবং সৎকাজ করবে তার প্রতিদান রয়েছে তাদের রবের কাছে এবং তাদের জন্য কোন ভয় ও মর্মবেদনার অবকাশ নেই।



Hajj, Sura Bakara 193-211

 (2:193)

    তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকো যতক্ষণ না ফিতনা নির্মূল হয়ে যায় এবং দ্বীন একমাত্র আল্লাহ‌র জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয় তাহলে জেনে রাখো যালেমদের ছাড়া আর কারোর ওপর হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়।

(2:194)

   হারাম মাসের বিনিময় হারাম মাসই হতে পারে এবং সমস্ত মর্যাদা সমপর্যায়ের বিনিময়ের অধিকারী হবে। কাজেই যে ব্যক্তি তোমার ওপর হস্তক্ষেপ করবে তুমিও তার ওপর ঠিক তেমনিভাবে হস্তক্ষেপ করো। তবে আল্লাহকে ভয় করতে থাকো এবং একথা জেনে রাখো যে, আল্লাহ‌ তাদের সাথে আছেন যারা তাঁর নির্ধারিত সীমালংঘন করা থেকে বিরত থাকে।

(2:195)

   আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করো না। অনুগ্রহ প্রদর্শনের পথ অবলম্বন করো, কেননা আল্লাহ‌ অনুগ্রহ প্রদর্শনকারীদেরকে ভালোবাসেন।

(2:196)

    আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যখন হজ্ব ও উমরাহ করার নিয়ত করো তখন তা পূর্ণ করো। আর যদি কোথাও আটকা পড়ো তাহলে যে কুরবানী তোমাদের আয়ত্বাধীন হয় তাই আল্লাহর উদ্দেশ্যে পেশ করো। আর কুরবানী তার নিজের জায়গায় পৌঁছে না যাওয়া পর্যন্ত তোমরা নিজেদের মাথা মুণ্ডন করো না। তবে যে ব্যক্তি রোগগ্রস্ত হয় অথবা যার মাথায় কোন কষ্ট থাকে এবং সেজন্য মাথা মুণ্ডন না করে তাহলে তার ‘ফিদিয়া’ হিসেবে রোযা রাখা বা সাদকা দেয়া অথবা কুরবানী করা উচিত। তারপর যদি তোমাদের নিরাপত্তা অর্জিত হয় (এবং তোমরা হজ্বের আগে মক্কায় পৌঁছে যাও) তাহলে তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি হজ্ব্বের সময় আসা পর্যন্ত উমরাহ্‌র সুযোগ লাভ করে সে যেন সামর্থ অনুযায়ী কুরবানী করে। আর যদি কুরবানীর যোগাড় না হয়, তাহলে হজ্ব্বের যামানায় তিনটি রোযা এবং সাতটি রোযা ঘরে ফিরে গিয়ে, এভাবে পুরো দশটি রোযা যেন রাখে। এই সুবিধে তাদের জন্য যাদের বাড়ী-ঘর মসজিদে হারামের কাছাকাছি নয়। আল্লাহর এ সমস্ত বিধানের বিরোধিতা করা থেকে দূরে থাকো এবং ভালোভাবে জেনে নাও আল্লাহ‌ কঠিন শাস্তি প্রদানকারী।

(2:197)

    হজ্বের মাসগুলো সবার জানা। যে ব্যক্তি এই নির্দিষ্ট মাসগুলোতে হজ্ব করার নিয়ত করে, তার জেনে রাখা উচিত, হজ্বের সময়ে সে যেন যৌন সম্ভোগ, দুষ্কর্ম ও ঝগড়া –বিবাদে লিপ্ত না হয়। আর যা কিছু সৎকাজ তোমরা করবে আল্লাহ‌ তা জানেন। হজ্ব সফরের জন্য পাথেয় সঙ্গে নিয়ে যাও আর সবচেয়ে ভালো পাথেয় হচ্ছে তাকওয়া। কাজেই হে বুদ্ধিমানেরা! আমার নাফরমানী করা থেকে বিরত থাকো।

(2:198)

    আর হজ্বের সাথে সাথে তোমরা যদি তোমাদের রবের অনুগ্রহের সন্ধান করতে থাকো তাহলে তাতে কোন দোষ নেই। তারপর আরাফাত থেকে অগ্রসর হয়ে ‘মাশআরুল হারাম’ (মুয্‌দালিফা) এর কাছে থেমে আল্লাহ‌কে স্মরণ করো এবং এমনভাবে স্মরণ করো যেভাবে স্মরণ করার জন্য তিনি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। নয়তো ইতিপূর্বে তোমরা তো ছিলে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত।

(2:199)

    তারপর যেখান থেকে আর সবাই ফিরে আসে তোমরাও সেখান থেকে ফিরে এসো এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিঃসন্দেহে তিনি ক্ষমাশীল ও করুণাময়।

(2:200)

   অতঃপর যখন তোমরা নিজেদের হজ্বের অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন করবে তখন আল্লাহকে এমনভাবে স্মরণ করবে যেমন ইতিপূর্বে তোমাদের বাপ-দাদাদেরকে স্মরণ করতে বরং তার চেয়ে অনেক বেশী করে স্মরণ করবে। (তবে আল্লাহকে স্মরণকারী লোকদের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে) তাদের মধ্যে কেউ এমন আছে যে বলে, হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়ায় সবকিছু দিয়ে দাও। এই ধরনের লোকের জন্য আখেরাতে কোন অংশ নেই।

(2:201)

   আবার কেউ বলে, হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দাও এবং আখেরাতেও কল্যাণ দাও এবং আগুনের আযাব থেকে আমাদের বাঁচাও।

(2:202)

   এই ধরনের লোকেরা নিজেদের উপার্জন অনুযায়ী (উভয় স্থানে) অংশ পাবে। মূলত হিসেব সম্পন্ন করতে আল্লাহর একটুও বিলন্ব হয় না।

(2:203)

    এ এই হাতেগোণা কয়েকটি দিন, এ দিন কটি তোমাদের আল্লাহর স্মরণে অতিবাহিত করতে হবে। যদি কেউ তাড়াতাড়ি করে দুদিনে ফিরে আসে, তাতে কোন ক্ষতি নেই। আর যদি কেউ একটু বেশীক্ষণ অবস্থান করে ফিরে আসে তবে তাতেও কোন ক্ষতি নেই। তবে শর্ত হচ্ছে, এই দিনগুলো তাকে তাকওয়ার সাথে অতিবাহিত করতে হবে। আল্লাহর নাফরমানী করা থেকে বিরত থাকো এবং খুব ভালোভাবে জেনে রাখো, একদিন তাঁর দরবারে তোমাদের হাযির হতে হবে।

(2:204)

  মানুষের মধ্যে এমন লোক আছে পার্থিব জীবনে যার কথা তোমার কাছে বড়ই চমৎকার মনে হয় এবং নিজের সদিচ্ছার ব্যাপারে সে বারবার আল্লাহকে সাক্ষী মানে। কিন্তু আসলে সে সত্যের নিকৃষ্টতম শত্রু।

(2:205)

  যখন সে কর্তৃত্ব লাভ করে, পৃথিবীতে তার সমস্ত প্রচেষ্টা-সাধনা নিয়োজিত করে বিপর্যয় সৃষ্টি এবং শস্যক্ষেত ও মানব বংশ ধ্বংস করার কাজে। অথচ আল্লাহ‌ (যাকে সে সাক্ষী মেনেছিল) বিপর্যয় মোটেই পছন্দ করেন না।

(2:206)

 আর যখন তাকে বলা হয়, আল্লাহকে ভয় করো তখন তার আত্মাভিমান তাকে পাপের পথে প্রতিষ্ঠিত করে দেয়, এই ধরনের লোকের জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট এবং সেটি নিকৃষ্টতম আবাস।

(2:207)

  অন্যদিকে মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অভিযানে যে নিজের প্রাণ সমর্পণ করে। এই ধরনের বান্দার ওপর আল্লাহ‌ অত্যন্ত স্নেহশীল ও মেহেরবান।

(2:208)

  হে ঈমানদারগণ! তোমরা পুরোপুরি ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের অনুসারী হয়ো না, কেননা সে তোমাদের সুস্পষ্ট দুশমন।

(2:209)

  তোমাদের কাছে যে সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন হিদায়াত এসে গেছে তা লাভ করার পরও যদি তোমাদের পদস্খলন ঘটে তাহলে ভালোভাবে জেনে রাখো আল্লাহ‌ মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।

(2:210)

   (এই সমস্ত উপদেশ ও হিদায়াতের পরও যদি লোকেরা সোজা পথে না চলে, তাহলে) তারা কি এখন এই অপেক্ষায় বসে আছে যে, আল্লাহ‌ মেঘমালার ছায়া দিয়ে ফেরেশতাদের বিপুল জমায়েত সঙ্গে নিয়ে নিজেই সামনে এসে যাবেন এবং তখন সবকিছুর মীমাংসা হয়ে যাবে? সমস্ত ব্যাপার তো শেষ পর্যন্ত আল্লাহরই সামনে উপস্থাপিত হবে।

(2:211)

    বনী ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করো, কেমন সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলো আমি তাদেরকে দেখিয়েছি! আবার তাদেরকে একথাও জিজ্ঞেস করো আল্লাহ‌র নিয়ামত লাভ করার পর যে জাতি তাকে দুর্ভাগ্যে পরিণত করে তাকে আল্লাহ‌ কেমন কঠিন শাস্তিদান করেন।



Sura Bakara 62-192

 ২-বাক্বারা

(2:62)

অনুবাদ:    নিশ্চিতভাবে জেনে রেখো, যারা শেষ নবীর প্রতি ঈমান আনে কিংবা ইহুদি, খৃষ্টান বা সাবি তাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তিই আল্লাহ‌ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনবে এবং সৎকাজ করবে তার প্রতিদান রয়েছে তাদের রবের কাছে এবং তাদের জন্য কোন ভয় ও মর্মবেদনার অবকাশ নেই।

(2:63)

৯ মার্চ, ২০২২

অকালেই ঝরে গেল সিয়াম

  বরিশালের বরগুনার বেতাগীতে গ্রামের বাড়ি। বাবা-মায়ের একমাত্র পুত্র সন্তান। নাম সিয়াম। ষষ্ঠ শ্রেণির একজন ভালো ছাত্র ছিল।পড়ত শহিদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ, মিরপুর ১৪ এ। আমার ছেলের ভালো বন্ধু ও।ওর মায়ের সঙ্গে কয়েকবার দেখা হয়েছে। খুব ভাল। আমার ছেলের স্কুলে যাওয়া আসায় সহযোগিতা করেছিলেন। ভুলতে পারব না। 

  বাবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ চাকরি করত।করনা- ১৯ এর ঝড়ে চাকরি হারালেন। অনেক চেষ্টা করে ও সচ্ছলতা আনতে পারেন নি পরিবারে। অগত্যা স্ত্রী ও সসন্তানকে গ্রামের বাড়ি পাঠালেন। ছেলেকে ভর্তি করলেন গ্রামের স্কুলে। ছেলে বলেছিল বাবা আমাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দাও। না হলে আল্লাহর কাছে ঠেকে যেতে পার।আল্লাহ মাপ করুক হয়তো জবাব নাও দেওয়া লাগতে পারে। 

  বাবা ঢাকাতে রইল। মা ছেলে গ্রামের বাড়ি। গত শুক্রবার ০৪/০৩/২০২২ নামজে যাওয়ার জন্য গোসল করতে গেল। শহরে বড় হয়েছে। সাতার কাটতে জানেনা। আধা ঘণ্টা পর পুকুরে লাশ পাওয়া গেছে। পানি খুব কম।পানির পরিমাণ  শুনেছি হাটুর একটু বেশি। নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছিল। ২০২১ সনে সিয়ামের নানা-নানি মারা যায়, বাবা চাকরি হারায়। 

   সন্তান হারানোর সময় ধৈর্য ধারণ করা : সন্তান হারানো মাতা-পিতা সন্তান মারা যাওয়ার পর যদি ধৈর্যধারণ করে এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকে। আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণ করে থাকেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘‘কোনো বান্দার কোনো সন্তান মারা গেলে তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর ফেরেশতাদের প্রশ্ন করেন, তোমরা আমার বান্দার সন্তানকে ছিনিয়ে আনলে? তারা বলে, হ্যাঁ। ...পুনরায় তিনি প্রশ্ন করেন, তখন আমার বান্দা কি বলেছে? তারা বলে, সে আপনার প্রতি প্রশংসা করেছে এবং ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পাঠ করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, জান্নাতের মধ্যে আমার এই বান্দার জন্য একটি ঘর তৈরি কোরো এবং তার নাম রাখো বাইতুল হামদ বা প্রশংসালয়। ” (তিরমিজি, হাদিস : ১০২১)

  আমার জানা মতে তার বাবা-মা উভয়ই খুব ভাল।আল্লাহ ধর্য্যশীলদের পুরস্কার দিবেন।আর কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবেই।নিষ্পাপ ছেলের সুপারিশে আল্লাহ যেন তাদেরকে বেহেশত দান করেন। আমিন।

 



২ মার্চ, ২০২২

বেরসিকের বাল্যকাল, শিক্ষা ও বর্তমান

  "মানুষের ভাগ্যে যা ঘটে যায় তাই সেরা,অন্য কিছু হলে এর চেয়ে খারাপ হতে পারতো। আল্লাহ মানুষের ভালো চান।"

'

   অনেক দিন ধরে কিছু লিখবো ভাবছিলাম। কিন্তু  কি লেখা যায় তা খুঁজে না পেয়ে নিজের জীবনের কিছু ঘটনা এলোমেলো ভাবে মনে পড়ে  । যখন খুব ছোট ছিলাম তখনকার হাজার ও স্মৃতির মধ্য থেকে কিছু এবং এখনকার অবসর জীবনপরযন্ত যা মনে পড়ে তা থেকে লেখা শুরু করি। 

 শিশুকাল (Childhood) ঃ 

গ্রামের সবুজ  ঘন বনে ঘেরা ছোট কুটিরে কোন এক সোমবারে (মায়ের মুখ থেকে শুনা)  জন্ম ১৯৬৩ সালে হতে পারে।

 দাদা,বাবা প্রথম শ্রেণীতে পড়া কালিন একদিন পর পর কলেরায় মারা যান।তিন মাস পরে ছোট ভাই মারা যায়।মা এবং আমার চেয়ে  দু'বছরের বড়ো ভাই এ-র তদারকিতে সংসার চলতে থাকে। সংসারে সদস্য  পাঁচ  ভাই, দুবোন এবং মা । আমি নিজেও মাঝে মাঝে কৃষি কাজ করেছি।একবার তিন কিলোমিটার দূরে কাজ করতে গিয়ে সংগে খাবার ছিল আটার রুটি এবং কাঁচা মরিচ। পরিশ্রমের পর খাবার দারুণ মজা লাগছিল।  ১৯৭৩ সনে বন্যায় ফসলের ক্ষতি হওয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। আল্লাহ সে সময় তাদের সহায় হন।

পরিচয় :-

দাদা মিয়া ইদ্রিস আলী নোয়াখালীর বরতমান লক্ষীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবা মিয়া জান মুন্সি একজন আলেম ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি পাল্কিতে বেড়াতেন এবং ছোটো খাট আকার মানুষ ছিলেন। তার ভাতিজা বসু মিয়া চাচার বদোউলতে তার কবর দেখার সোউভাগ্য হয়েছিল।

 দাদী পাগল হওয়ায় ১৯৪৮ সনের রায়টের পর দাদা তার ছোট মেয়েকে সুবর্নের চরে পালক দিয়ে ছেলে হাফিজুর রহমান ও আব্দুর রব এবং মেয়ে হাজেরা কে নিয়ে ফরিদপুর এর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির মেছুয়াঘাটা গ্রামে যা দক্ষিণ বাড়ি মৌজায় বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন। বড়ো মেয়ে দক্ষিণ অভিরাম্পুর, চন্দ্র গঞ্জ শশুর বাড়ি রয়ে যায়।

 পঁাচ ভাই দুই বোন ছিল। মা অনেক কষ্ট করে সংসার পরিচালনা করতেন। সেই সুবাদে আল্লাহর ইচ্ছায় খাবার অভাব ছিল না।


স্কুল জীবন (School Life) : 

বয়স যখন ৪/৫ বছর ভর্তি করা হল মাদ্রাসায়  ইসলামী শিক্ষার সাথে বাল্য শিক্ষা। পরে দাদা হেলার উদ্দিন , নজরুল এর বাবার  সহযোগিতায় নজরুলের সাথে  সোনাপুরে অবস্্থিত Majbari Primary School এ  পড়াশোনা শুরু ১৯৬৭ সালে।

বাড়ী থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দুরে প্রাথমিক  বিদ্যালয়ে পড়াশুনা। পড়াশোনা ভালোই করছিলাম। প্রতিবারের মতো এবারও শ্রেনীতে প্রথম ও ৫ম শ্রেনীর বৃত্তি পেলাম। 

তারপর মাজবাড়ী হাই স্কুলে ভর্তি হই।পায়ে জুতা ছাড়াই চলল ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশোনা ।  এবার ও অষ্টম শ্রেণির  বৃত্তি পেলাম। অবদান মা, বড়ো ভাই এবং শিক্ষক গণের এবং আল্লাহর ইচ্ছাই বড়। ছোট বেলা  অনেকটা সহজ সরলভাবে দিন কেটে গেছে ।
এস এস সি পরীক্ষার সময় কোন এক পীর সাহেব আসলেন স্কুলের সবাইকে বলা হল হুজুরকে ছালাম কর।    প্রিয় কাশেম স্যার ছিলেন এ কাজের ভূমিকায়। যা হোক পরীক্ষা হয়ে গেল।স্কুলের  রেজাল্ট একমাত্র আমিই প্রথম বিভাগ পেলাম  ।

ছোট বেলা থেকে  নামাজ পড়ার চেষ্টা করেছি।


কলেজ জীবন(College Life):

  এটা একটু কষ্টের জীবন ছিল।
১৯৭৯ সনে  এসএসসি পাশ করার পরে রাজবাড়ী সরকারী কলেজে ভর্তি । আত্নীয় বাড়ি, হোস্টেল এবং লজিং(সূর্যনগর)  থেকে ক্লাস করার ৪ মাস পরে বুঝলাম এভাবে পড়াশুনা সম্ভব নয়। বালিয়াকান্দি কলেজের অফার ফ্রি থাকা খাওয়া সহ লেখাপড়া করা যাবে।যে কথা সেই কাজ। বালিয়াকান্দি কলেজে পুনরায় ভর্তি। ক্লাস চলতে থাকল  ৭ কিলোমিটার পায়ে হেটে বা বাইসাইকেলে। তার পরে একটি লজিং যা তিন মাস থাকা সম্ভব হয়েছিল।কারণ বাড়িওয়ালা রাত ১০/১১ টায় বাড়ি ফিরে পরিবারের লোকদের প্রতি গালিগালাজ করত যা আমার পছন্দ নয়।

প্রিন্সিপাল এর প্রতিশ্রুতি কোন কাজে আসেনি। শশুর বাড়ির লোকেরা আগে থেকেই আত্নীয় কিন্তু দুর দিনে কোন কাজে লাগেনি। 

 বালিয়াকান্দি থেকে বারেক গ্রাম প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। হেটে গিয়ে গনিত প্রাভেট পড়েছিলাম এক/দুই মাস প্রতি শুক্রবার লোহাগড়া কলেজের এক শিক্ষকের কাছে। আমাদের কলেজের গনিত শিক্ষক ভালো পড়াতে পারতেন না।পরে উনি অবশ্য শিখে নিয়েছেন। 

তারপর আমতলা  আত্নীয়  আবুল কাশেম,   আবুল হাসেম ভাইদের বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসাবে থাকা।তাদের অভাব শুরু হলে চলে যাই মেসে।শাহজাহান, শিরিন চাচা-ভাতিজি আমার প্রতিবেশী ও ক্লাস মেট।

৭ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে, বাইসাইকেলে, পেয়িং গেস্ট থেকে অনেক কষ্টে  এইস এস সি  পরীক্ষা হয়ে গেল। ফলাফল দ্বিতীয় বিভাগ। এ্ই ফলাফলে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছিল সহপাঠী   কিরন চৌধুরী। তবে কিরনের বোন মুসলিম হলেও কিরন অমুসলিম অবস্থায় মারা যাওয়ায়  মাঝে মাঝে  মন খারাপ হয়ে যায়।
এর পর অনার্সে ভর্তি কাহিনী আরও মজার। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ও ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে দুইবার ফোন করেছিলাম পরিচিত একজনকে। ফলাফল জানায়নি। বললো ভুলে গেছি।

নাটোর সরকারি সিরাজ দ্দোলা কলেজে বি এস সিতে ভর্তি।ইচ্ছা ছিলো মামার বাসায় থেকে লেখাপড়া করা।মামাতো ভাই ছোট্ট  বাবুলের একটি আচরণ মন খারাপ হল।একদিন ক্লাসের বই পড়ছিলাম। কোথা থেকে এসে বইয়ের উপর  থাপ্পড় দিয়ে বইটি ছিটকে ফেলে দিল।

 পাংশা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে  ভর্তি:- 

নাটোর থেকে এসে  পাংশা  বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে  ভর্তি।যাওয়া আসা ছিল কষ্টের।পায়ে হেটে, বাইসাইকেলে, রেলওয়ের মাধ্যমে ক্লাস করা।গনিত,পদার্থ বিদ্যা ও রসায়ন নিয়ে পড়া। প্রতিটি ১ম ১ম প্ত্র, ২য় পত্র,৩য় পত্র। রাজবাড়ী কলেজের এক শিক্ষকের কাছে এক মাস প্রাইভেট পড়েছিলাম গনিত। যাতায়াত ছিলো অনেক কষ্টের। বাড়ি থেকে বাইসাইকেলে কালুখালি রেলওয়ে ষ্টেশন, তারপর ট্রেনে রাজবাড়ী ষ্টেশন, এরপর আধা কিলোমিটার হেটে গনিত শিক্ষকের বাসায়। দুরভাগ্য বশত রসায়নে তিন নম্বর কম পাওয়ায় ফেল।

পরবর্তীতে পরীক্ষা দিলাম তিন জন পাস করে।আমি দ্বিতীয় বিভাগ  ও অন্য দুজন তৃতীয় বিভাগ  পেলাম। এভাবে   বি-এসসি ডিগ্রি লাভ  ১৯৮৫ সালে ।

বিয়ে ও চাকুরী :-

১৯৮৫ সালের ২৮ শে জুন বিয়ে করার পর দু বছর পর স্ত্রীকে বাড়িতে আনার কথা ।বিয়ের সময় স্ত্রী নবম শ্রেণির ছাত্রী। ইচ্ছে ছিল এস এস সি পাসের পর স্ত্রীকে বাড়িতে তুলে নিব।কিন্তু তা আর হলো না।লেখা পড়ায় ছিল ফাকি বাজ। 

বিয়ের আগে জানা ছিল রাগ বেশি। আমার  এক ছাত্রীর মা স্ত্রীর স্কুল শিক্ষিকা বিয়ে করতে নিষেধ করে ছিলো। বলে ছিল এত তাড়াতাড়ি বিয়ে কেন, যদি করতেই হয় এর ছোট বোন কে করো।

 ঢাকা টিটি কলেজ হতে ১৯৮৮-৮৯ সেশনে  বি-এড   উচ্চতর দ্বিতীয় বিভাগ পেয়ে শিক্ষকতা করতে থাকি। হাড়ীভাংগা বিদ্যালয়, মাজবাড়ি হুরুন্নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ,পাংশা বাহাদুরপুর উচ্চ বিদ্যালয় এ  চাকুরির পর  সরকারী অগ্রনী ব্যাংকে  চাকুরী হওয়ায় যোগ দেই চাকুরীতে ১৯৮৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর ফরিদপুর আঞ্চলিক কারযালয় ।আলহামদুলিল্লাহ সাড়ে বত্রিশ বছর চাকুরী জীবন ভালোই কেটেছে। 

অগ্রনী ব্যাংক ভাংগা শাখায় যাত্রা শুরু। তারপর রাজবাড়ী, আহ্লাদী পুর,নলিয়া জামাল পুর, কালুখালী, বোয়ালমারি, কুরমীটোলা ঢাকা, আঞ্চলিক কারযালয় মৌচাক  হতে অবসর গ্রহণ। 

২০২২ ইংরেজী সালের ৬ই জুন অবসর গ্রহণ চাকুরী হতে। তারপর চলছে দিন।

স্ত্রীর উদ্দেশ্যে কিছু কথা। 

 স্ত্রী খুব রাস ভারী মহিলা । সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব তার নিজেকেই নিতে হয়। সে সংসারের সব খেয়াল রাখে। বাবার সংসারে থাকাকালীন বড় মেয়ে হওয়াতে সংসারে অনেক কাজ মানে টাকার হিসাব ও বাজার নিয়ন্ত্রণ  করতো। এ সংসারে যাবতীয় দায়িত্ব তার নিজের কাঁধে পড়ায় আমার   সংসারের চিন্তা করতে হতো না। বাজার,সন্তানদের  লেখাপড়া সবকিছুই নিজ হাতে করত। এখনো করছে তাই। আর এ সুযোগে  বেশ কিছু সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছেন ।কিন্তু মেজাজ রুক্ষ হওয়ায় নিজের  দোষ ত্রুটিগুলো বুঝতে পারে না।  কার ও প্রতি রাগ হলে তার কষ্ট বা শাস্তি না দেখার আগে রাগ যায় না। বউমাদের কাছে জমির ব্যাপারে কি বলেছে এ নিয়ে বড়ো ভাইয়ের পরিবারের প্রতি তার রাগ। যার কারণে বিক্রি করা জমি লিখে দিতে অন্যায় ভাবে বাধা দিচ্ছে। এমন ঘটনা আমার সাথে বহুবার ঘটেছে। 

স্ত্রীর আগের কিছু স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে মনে পড়ে গেল ঃ-

১)  অফিসের স্যার কে সাথে করে একটি দামী শাড়ী কিনেছিলাম স্ত্রীর জন্য। স্ত্রী সেটি ফেরত দিয়ে নিজের পছন্দের শাড়ি  নিয়েছিল ১৯৯২ সালের দিকে। 

২) একবার লাউ ছুড়ে ফেলেছিল পাকা বলে। অবশ্য পরে তা রান্না করে ছিল।

৩) আর একবার ঝগড়া করে মাছ ফেলে দিয়েছিল। 

৪) আরও একবার কাচা সব্জি ভালো না বলে ছুড়ে ফেলেছিল। অবশ্য পরে তা রান্না করে ছিল। 

৫) আর একটা ঘটনা  স্ত্রীর বাবা চাউল এনে দিয়েছিল বাজার থেকে। বলেছিল বাবা না আনলে চাউল ফেরত দিতাম ভালো নয়।

৬)  ছেলের বউ মরিচ ব্লেন্ড করে রেখেছিল। এবং একটু খারাপ হয়ে গেছে দেখাতে গিয়ে আমার  গায়ে ছুড়ে মেরেছিল।

৭) আর একবার মাছ না এনে ডিম আনায় এক ডজন ডিম ফ্লোরে ছুড়ে ফেলেছিল। 

এভাবেই এখনো প্রতিদিন হাজার ও আপত্তির মধ্যেই চলছে দিন।

৮) তার অভিমত আমার উপর চাপানোই তার চরম সুখ।

সময় পেলে আরও কিছু বলব অন্যদিন। 

২২/০৯/২০২২ ইং তারিখ ঃ

  আমার রোজগারের টাকা খরচ করার পর হিসাব হয় খুব কড়া ভাবে। স্ত্রী  আগে হিসাব নিত  ভাই-বোন কে  দিয়ে দেই কিনা।     বা  আবার কোন বিয়ে করে ফেলে কিনা? এখন হিসাব ন্যায় ছোট ছেলে নেয় কিনা।   ছোট ছেলের দোকান থেকে কিছু কিনে খাওয়ার অভ্যাস, ক্ষুধা লাগলে সহ্য করতে পারে না। আজ বাজার করেছি ৪৩০/ টাকা। হিসাব খাতায় লেখা হয়েছে এবং অবশিষ্ট্য টাকা মিলিয়ে রাখা হয়েছে।

 এল পি আর ছুটি চলছে,  ইচ্ছা মত ঘুরে ফিরে ছুটি ভোগ করা যাবে না।বোকাসোকা মানুষ কোথায় আবার ধরা খায় কে জানে। তাই সব সময় স্ত্রী চোখে-চোখে রাখছে। আর এদিকে ছোট ছেলের প্রতি খেয়াল না রাখায় পড়াশোনা খারাপ হয়ে গেছে। তার শাসনে থাকায় আমাকে ভয় পায় না বা আমার কথা শুনতে চায় না।শসন করলে স্ত্রীর খারাপ লাগে।

বিয়ের পর   স্ত্রীর ব্যবহারের কারণে সম্ভবত প্রথম   ব্রেইন স্ট্রোক ১৯৮৫ সালে জানতে পারল দিতীয় ব্রেন স্ট্রোক ২০২৫ সালে হওয়ার পর ।

তারিখ -২৮/০৯/২০২২ ঃ-

 কিছু আপত্তি স্ত্রীর প্রতি -

১) উপার্জনের অর্থ খরচ স্ত্রীর হাতে হবে কেন? 

২) বাজার খরচের পর স্ত্রীকে হিসাব দিতে হবে কেন? 

৩) প্রভিডেন্ট ফান্ড এর বিভিন্ন সময়ে উত্তোলনের অর্থ এর ৩০ বছরের হিসাব স্ত্রীকে দিতে হবে।

৪) চুল পেকেছে বলে ছোট ছেলেকে নিয়ে স্কুলে যাওয়া যাবে না।বান্ধবীরা ভাববেন সেও বুড়ী হয়েছে। 

৫)  একা ভাইদের বাড়িতে যেতে পারবেনা। 

৬) স্ত্রীর বয়স বলা যাবে না । এমনকি ডাক্তার এর কাছে ও না।

৭)  ছেলেদের লেখা পড়ার সময়ে জমি বিক্রি করেছি তা স্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া লিখে দেওয়া যাবেনা। যা আমার  জন্য বেদনাদায়ক। 


০৯/ ০৯/২০২২ তারিখ ঃঃ-

স্ত্রীর আদেশ মোবাইল টিপা এবং বই পড়া যাবে না মাত্রাতিরিক্ত। 

১১/১০/২০২২ তারিখ ঃ-

সকালে বাজার শেষে হিসাব মিলছিল না। তার পর বেরসিকের স্ত্রী  চোটে গেল, বলল চাকরি যে ভাবে গোজামিল দিয়ে করেছ এখন ত সেভাবে গোজা মিল দিবা। যাক সব হিসাব শেষে যখন মিলল তখন আর কিছু বলল না।

বিকেলে ছেলেকে বলেছিল, বাসায় এসে কোচিং-এ যেতে হবে। কিন্তু কোচিং থেকে ফোন করে ছেলে বললো বাসায় আসবে না।বেরসিক বলল, আচ্ছা তোমার মাকে বলবো। তিনি নামাজ শেষে একচোট নিলেন বেরসিকের উপর। বলল আমি ত যাওয়ার সময় বলে দিয়েছি বাসায় এসে যেতে হবে, তুমি কেন আসতে বললে না।তার পর কথা বন্ধ।বেরসিক কে বলল তোমার সাথে আর পারছি না। বেরসিকের স্ত্রী লেখা-পড়া কম হলেও কথার চোট অনেক বেশী। বেরসিক স্ত্রীর চেয়ে ৪/৫ ক্লাস বেশী পড়েছে।

স্ত্রী বলে ও সব শিক্ষিতদের ভেলু দেই না। সে অনেকটা অশিক্ষিত লিডারদের মত। অথচ বেরসিক এই শিক্ষা নিয়ে ছত্রিশ বছর ভালো ভাবে চাকুরির মেয়াদ শেষ করেছে এবং স্ত্রী  তার সুফল ভোগ করছে /করবে।

তারিখ- ১৮/১০/২০২২
সকালে ঘুম থেকে উঠে হাতের ব্যথা অনুভব করায় মেঝছেলের উপর রাগ করে বলে আমার ভিসা এতো দেরি কেন? ছবি দিয়ে দাও আমার ভিসা আমিই করব।কারো লাগবে না।তারপর বেরসিক ভাত রান্নার সাদা চাউল ধুয়ে দিল। লাল চাউল ধুয়ে দিল না কেন সব ভাংচুর শুরু করে দিল।

তারিখ - ২১/১০/২০২২

ছেলে থাইল্যান্ড থেকে লাগেজ ব্ক্স নিয়ে আসে।তা মা পাওয়ার জন্য দাবী করে। কিন্তু স্ত্রী দিতে না চাওয়ায় মা অসন্তুষ্ট হয়ে আক্ষেপ করে। 

তারিখ - ২৭/১০/২০২২

  মুক্তভাবে একা কোথাও কাজে বা প্রয়োজনীয় কাজে যেতে দেওয়া হয় না।আজ স্ত্রির ভাগ্নীকে কম্বল দিতে যাওয়া দরকার কিন্তু স্ত্রী সাথে যাবেই। রাত হয়ে যাওয়ায় আর সফর বাতিল।আগামীকাল ছেলে বা বেরসিক যাবে কারণ আগামীকাল স্ত্রী দেশের বাড়ি যাবে। দেখা যাক কি হয়।

তারিখ -২২/১১/২০২২

  স্ত্রীর খামখেয়ালি মেজাজ, বলল দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাবে না এখন। ছেলের পরীক্ষার পর ইন্ডিয়া থেকে ঘুরে এসে রাকিবের কাছে যাবে। অথচ দাতের ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরী। 

তারিখ ০৪/১১/২০২৪

সকালে খাবার সময় বলল,আর লাগবে, বললাম, না।বলল,আমাকে কিছু দাও।তুলে দিলাম।পরক্ষনেই ভাত আমার দিকে ছুড়ে মারল।রাগ করলাম। মন খারাপ হল।

০৫/১১/২০২৪

সবজি বাজার পছন্দ হয়নি, তাই বরবটি ছুড়ে ফেলে দিল।এমন ঘটনা নতুন নয়।এর আগে চিচিঙ্গা, লাউ,শাড়ি, ডিম ইত্যাদি ছোড়াছুড়ি দেখার অভিজ্ঞতা আছে। তাছাড়া চোখ রাংগানি, কটুকথা অহরহ হয়ে থাকে। 

০৯/০৯/২০২৫

গতকাল বড় বউ মা ফোন দিয়ে তার শাশুড়ি কে কুশল বিনিময়ের সময় রান্না খাওয়া ও কাজ নিয়ে কথা বলে। কাজের লোক এর ও রান্নার কথায় বলে ফেলে আপনার কথায় রসকষ নাই।আরও এক বার বলে আপনার ত শোকর আদায়ের করেন না।আর এতেই শাশুড়ি কান্নাকাটি শুরু করে। তার কথা বউদের ভালো বাসার এই প্রতি দান।আরও একবার বলে ছিল সুখে থাকতে ভুতে কিলায়।সত্যিই কথা গুলো দু:খ জনক।এমনিতেই ছোট ছেলে নিয়ে মহা বিপাকে। ঠিক মত পড়াশোনা করে না, মোবাইল আসক্তি। ঘুম ও সাস্থ্যগত সমস্যায় টেনশনে। এ ভাবে না বললে ভালো হতো। 

((( বড় বউ মাকে একটি মোবাইল মেসেজ,  "ফোন দিয়ে তোমার  শাশুড়ি কে কুশল বিনিময়ের সময় রান্না খাওয়া ও কাজ নিয়ে কথা বলে। কাজের লোক এর ও রান্নার কথায় বলে ফেলে আপনার কথায়" রসকষ নাই"।আরও এক বার বলে "আপনি ত শোকর আদায়ের করেন না"।আর এতেই শাশুড়ি কান্নাকাটি শুরু করে। তার কথা বউদের ভালো বাসার এই প্রতি দান।আমি ওদের অনেক ভালো বাসি।অন্যান্য বউ শাশুড়ির চেয়ে আমরা কত ভালো আছি।আরও একবার বলে ছিল সুখে থাকতে ভুতে কিলায়।সত্যিই কথা গুলো দু:খ জনক।এমনিতেই নিজের শরীর খারাপ।ছোট ছেলে নিয়ে মহা বিপাকে।  ঠিক মত পড়াশোনা করে না, মোবাইল আসক্তি। ঘুম ও সাস্থ্যগত সমস্যায় টেনশনে। এ ভাবে না বললেই ভালো হতো মা।তোমার শশুর।")))

১২/০৯/২০২৫

বড় বউমাকে

আম্মু, তোমার মায়ের রাগ যাচ্ছে না।মাঝে মাঝেই মনে পড়লে কান্না করে।আমি বললাম, ওতো সরি বলছে। বলে যে ওতো আমাকে সরি বলে নাই। তুমি সুযোগ মত ক্ষমা চেয়ে নিও।ফোন দিও।দোয়া করো যাতে ভালো থাকি।

২৯/০৮/২০২৬

রাগে ক্ষোভে কথা বলে না। আমার শশুর ১৯৯২ সালে একটা ফ্যান কিনে দিয়ে ছিল আজ ও সেই খোটা দিল।

বাসায় আমার শশুর প্রতি মাসে লাকড়ি পাঠাত।তা ছাড়া নগদ টাকা দিত বলে আমার জানা নাই। চাকুরি করে যে টাকা পেতাম তা দিয়ে কষ্ট করে চলতাম। প্রায় ৩.৫০ লক্ষ টাকার জমি বিক্রি করি আমার নিজের ঢাকায় বাসা নেওয়ার পর থেকে । 

বাড়ির জমি স্ত্রীর নামে ১০ শতাংশ দিয়েছে।

বিয়ের পর দুই বছর আমার   সাথে ভালো ব্যবহার করে নাই। ওই সময়ে  প্রথম ব্রেইন স্ট্রোক হয়।

  শ্বশুর জানার পর স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়িতে পাঠায়।তখন থেকে জোড়া তালি দিয়ে সংসার চলতে থাকে। 

রুক্ষ মেজাজের বংশের মেয়ে। সন্তানদের  মানুষ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে এবং রাখছে ছেলেদের একটু কষ্ট হলেও । আলহামদুলিল্লাহ বড় দুই ছেলে চাকুরী করছে এবং ভালো আছে। তাই মানসিক ভাবে অনেক অনেক শান্তিতে আছি। 

  অফিসের দিন গুলো  ভালোই কেটেছে। এখন ছেলের স্কুল টাইম, প্রাভেট এই সময় গুলো ভালোই কাটছে। যেহেতু বাসার সব দায়িত্ব তার তাই না থাকলেও সমস্যা। কিন্তু বাড়ি চলে গেলে কোন সমস্যা হয় না।

২০/০৯/২০২৬

গতকাল রাতে বাকি বিল্লাহ এর সাথে কথা বলার সময় বাড়ির জমির হিসাবে বিক্রি করে ১৩.৫ শতাংশ আছে বলতেই ক্ষেপে গেল স্ত্রী। 

 ২১/০৯/২০২৬

২০/০৯/২০২৬ সকালে ছোট ছেলে প্রাইভেট পড়তে যায় কিন্তু স্যার না আসায় চলে আসা উচিৎ ছিল আসে নাই।বলেছে ওখানেই ছিল। ওর মা কান্না কাটি করে বলে কেন আমি সাথে গেলাম না, কেন তাকে ঘুম থেকে ডাকা হলো না, নিজে নিজের মরন কামনা করছিল।ওই সময় আমি আমিন বলে, বললাম মরন কামনা করা নিষেধ। ঈমান থাকে না।তারপর থেকে ছত্রিশ ঘন্টা কথা বলে না। যার প্রতি রাগ হয় তার শাস্তি না দেখা পরযন্ত রাগ কমে না। 

৩০/১০/২০২৬

স্ত্রী বাজার করতে বলল, টমেটো, ধনে পাতা,শসা, মরিচ, লাল চিড়া।

আনলাম, টমেটো, শসা, মরিচ, সাদা চিড়া। করকস ভাষায় বলল, পছন্দ মত বাজার করতে না পারলে ফ্যামিলি থেকে অবসর নিয়ে অন্য কোথাও চলে যাও।

গোপনীয় :-

বিক্রি করা জমির তথ্য:-

 মোঃ মন্তাজ (খালাত) ভাইয়ের নিকট ১১ শতাংশ, 

আঃ কুদ্দুসের নিকট  ১১ শতাংশ(৫.৬০ শতাংশ রেজিষ্ট্রেশন করে দেওয়া হয়েছে) ,

 মোঃ আশ্রাফের নিকট ৩৭৫০০০/ টাকা দরে ১৫০০০০/ টাকা (৮.৮০ শতাংশ) ।  জমি বিক্রি করা হয় ২০০৫-২০১০ সালে।

শুকুর আলী নিকট ১.৪০ শতাংশ যা বড় ভাই বিক্রি করেছে অনেক আগে।

 ১৯৯৭ সালে পারিবারিক জমি বিক্রয় করে ২৫০০০/ টাকা নেওয়া হয়, যা  ১০.০০ শতাংশ জমির বিনিময়ে।এর মধ্যে নিজের ২.০০ শতকের টাকা বাদ দিয়ে ৮.০০ শতাংশ লিখে দিতে হবে।  

  কোনো ক্ষেত্রেই বাড়ির জমি বিক্রি করা হয় নাই। বড় ভাইয়ের মতামত অগ্রাধিকার দিতে হবে পরকালের দায়মুক্তির জন্য। 

এদিকে স্ত্রীর ছোট ভাইকে এক লাখ (১,০০,০০০)টাকা জমি বাবদ দেওয়া যা পরে সে একবার বলেছে টাকা দিবে আবার বলেছে বাড়ির দক্ষিণ পাশের জমি দুই (২) শতাংশ দিবে।

বোন পিলিকে আট লাখ দশ হাজার( ৮,১০,০০০)টাকা দেওয়া পুকুরের সাত শতাংশ এবং চরের মাঠে পঞ্চান্ন (৫৫)শতকের মধ্যে ১৩.৭৫ শতাংশ বাবদ।

লিলি কে ৩২০,০০০ টাকা পঞ্চান্ন (৫৫)শতকের মধ্যে ১৩.৭৫ শতাংশ বাবদএবং ৭০০০০ টাকা ধার বাবদ দেওয়া অনেক দিন আগে(২০১৫_১৬ সালে)। 

এ ছাড়া ডলি কে জমি লিজ বাবদ সত্তর হাজার(৭০,০০০) টাকা দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাংক থেকে লোন করে এক লক্ষ টাকা দেওয়া আছে ।


১ মার্চ, ২০২২

আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ -কবিতাআল কুরআন,সুরা ইয়া‌ছিন~ ২ হ‌তে ৮৩ অবলম্ব‌নে)

 ‌লেখক ~ বের‌সিক

 (আল কুরআন,সুরা ইয়া‌ছিন~ ২ হ‌তে ৮৩ অবলম্ব‌নে)


পরম দাতা দয়ালু আল্লাহর না‌মে ।

জ্ঞানগর্ভ কুরআ‌নের কসম ক‌রে ,ব‌লেন র‌বে

 রাসুল তোমায় কিতাব দিলাম

 অসাবধানী‌দের বোঝা‌তে হ‌বে ।

Feartured Post

বাকি বিল্লাহ হিসাব( AI Chat gpt)

  🏡 পারিবারিক আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিবারের অর্থের হিসাব রাখুন, সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করুন মোট আয় ৳ ০ মোট ব্যয় ৳ ০ অবশিষ্ট (আয় − ব্যয়) ৳ ০ 📝 নতু...

জনপ্রিয় পোস্ট