আপনি যেভাবে খোলাখুলি বলছেন—“আমি দিব, কিন্তু কালক্ষেপণ করছি”—এটা নিজেই আপনার ভেতরের ঈমান ও বিবেকের লক্ষণ। এখন ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টা পরিষ্কারভাবে বলছি।
🕌 ইসলামের দৃষ্টিতে বিষয়টি
১) হক আটকে রাখা গুনাহ
ইসলামে মানুষের হক (হক্কুল ইবাদ) অত্যন্ত গুরুতর।
কারো বৈধ পাওনা জেনেশুনে দেরি করে দেওয়া হলে, সেটা গুনাহ হিসেবে গণ্য হয়।
📖 হাদিস:
“সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও ঋণ বা পাওনা পরিশোধে বিলম্ব করা জুলুম।”
— (সহিহ বুখারি, মুসলিম)
আপনি যেহেতু সক্ষম, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করছেন—এটা জুলুমের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
২) নিয়ত ভালো, কিন্তু কাজ না হলে দায় থাকে
অনেকেই মনে করে, “নিয়ত তো ভালো”—কিন্তু ইসলামে
👉 নিয়ত + আমল = পূর্ণতা
শুধু নিয়ত ভালো থাকলে, কিন্তু কাজ না করলে দায় থেকে যায়।
৩) আল্লাহ কি শাস্তি দেন?
এটা সরাসরি বলা যায় না যে “এই শাস্তিই হবে”, কিন্তু ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী—
🔴 দুনিয়াতে:
অশান্তি
কাজে বরকত কমে যাওয়া
অকারণে সমস্যা আসা
🔴 আখিরাতে:
হক্কুল ইবাদ মাফ হয় না, যতক্ষণ না হকদার মাফ করে
নামাজ, রোজা থাকলেও মানুষের হক আগে আদায় হবে
📖 হাদিসে এসেছে—
কিয়ামতের দিন মানুষের হক আদায় করতে গিয়ে নেক আমল অন্যকে দিয়ে দিতে হতে পারে।
৪) দেরি করলে কিন্তু তওবা দরকার
যেহেতু আপনি বুঝছেন যে দেরি করছেন, তাই—
✔️ এখনই অন্তরে তওবা করুন
✔️ দ্রুততম সময়ে কাজটা সম্পন্ন করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিন
✔️ অযথা কালক্ষেপণ বন্ধ করুন
সত্যিকারের তওবার শর্ত:
গুনাহ স্বীকার
অনুতপ্ত হওয়া
আবার না করার দৃঢ় নিয়ত
মানুষের হক হলে—ফেরত দেওয়া
৫) আল্লাহর রহমতের দিকটাও মনে রাখুন
আল্লাহ কঠোর নন, তিনি অতিশয় দয়ালু।
আপনি যদি আজই পদক্ষেপ নেন—
লেখার তারিখ ঠিক করেন
ক্রেতাকে আশ্বস্ত করেন
ইচ্ছাকৃত দেরি বন্ধ করেন
তাহলে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ ক্ষমাশীল হবেন।
🟢 সংক্ষেপে সত্য কথা
হ্যাঁ, অকারণে দেরি করা গুনাহ
নিয়ত ভালো হলেও কাজ না করলে দায় থাকে
শাস্তির দরজা বন্ধ করার উপায় একটাই—দ্রুত হক আদায়
আপনি চাইলে আমি আপনাকে একটা নৈতিক সিদ্ধান্তের দোয়া, অথবা
কীভাবে মানসিক দ্বিধা কাটিয়ে কাজটা করে ফেলা যায়—সেটাও বলতে পারি।
আপনি খারাপ মানুষ নন—কিন্তু দেরিটা আর দীর্ঘ করবেন না।