(লেখক- মো: জালাল উদ্দিন ; ১৯৮৪ (ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ৮৮-৮৯ সেশনে প্রকাশিত))
অট্টালিকায় থাকে যে জন,
মনে করো না, সুখি সে জন,
অধিক পাওয়ার আশায় হয়তো
অস্থির তার মন।
লেখক - বেরসিক-. সময়কাল ১৯৮৪
পরম দাতা দয়ালু আল্লাহর নামে।
শুরু করিলাম কবিতার চরণে।
আল্লাহর আদিষ্ট বিষয়ে মনোযোগে পড়ো।
তার বাণী বদলানোর ক্ষমতা নাই কারো।
একমাত্র তাঁরই আশ্রয়ের আশা করতে পারো।
যারা সকাল-সন্ধ্যায় ডাকে রবের সন্তুষ্টির তরে,
পার্থিব শোভা কামনার্থীদের অনুসরণ করিও না, আল্লাহকে ছেড়ে।
যার ইচ্ছা আদিষ্ট বিষয় মান্য করে।
জালেমদের দোযখের আগুন রাখিবে ঘিরে।
গলিত ধাতুর ন্যায় পানি দেওয়া হবে তারে।
এ পানি মুখমন্ডল দিবে বিদগ্ধ করে।
যারা ঈমান এনেছে কাজ করেছে ভালো।
তারা মনের আনন্দে পাবে বেহেশতের আলো।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ,প্রার্থনা রবের কাছে ,
আকাশ পৃথিবীর রব, তোমার মত জ্ঞানী কি আর আছে ?
মানুষ বলে ,মৃত্যুর পরে আবার কি জীবিত হব ?
যখন কিছুই ছিলে না , সৃজিয়াছেন তিনি একথা একটু ভাবো ।
শয়তান সহ সকলেরই জড়ো, করবে দোযখের পাশে হায়,
যারা আল্লাহর অবাধ্য ,দোযখের যোগ্য দাখিল করবে তায় ।
ঈমানদারগণে মুক্তি দিবে বুঝাবে কোন দল উত্তম মর্যাদায় ।
তাদের আগেও সম্পদশালীদের বিনাশ করেছে শাস্তির থাবায় ।
যারা গোমরাহীতে লিপ্ত, প্রচুর অবকাশ দি্বে কিয়ামত অবধি ,
ওদের জানাবে কে মর্যাদায় কদর্য, আর কে সেনায় দুর্বল হে নবী ।"
যারা সৎপথে চলে আল্লাহ তাদের দেন উত্তম ফল ,
বৃথা নাহি যায় তাদের শ্রম, নাহি হয় নিষ্ফল ।
যে আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করে এবং দিতে চাহে মাল আওলাদ ,
শাস্তি বাড়িবে না মিথ্যা আশ্বাসে, কাজে আসিবে না তাদের ইবাদত ।
যে দেয় আল্লাহকে সন্তান গ্রহণের মিথ্যা অপবাদ ,
মিথ্যা বলার কারনে ওদের দিয়ে দোযখ করিবে আবাদ ।
=======
৮। বিচার দিনে
(আল কোরআন সূরা তাহা 107 থেকে 112)
লেখক - Admin
ওরা প্রশ্ন করে পর্বতেরে আল্লাহ করবেন কি?
উড়াইয়া দিবেন রবে বানাইয়া ধুলি ।
জমিন হবে সমভূমি ,অসমতল থাকবে না কিছু,
বাহানা চলবে না,ধরবে সবাই আহ্বায়কের পিছু ।
সেদিন সবাই হাজির হবে মহান সম্রাটের সামনে।
সুপারিশকারী পাবে না ,আমাদের রাসুল (সা) বিনে।
সামনে-পিছে যা আছে সবই আছে আল্লাহর জ্ঞানে ,
জুলুম বাজ ব্যর্থ হবে চিরস্থায়ী রবের সামনে ।
মুমিনের , অবিচার-অধিকার বঞ্চিতের নাই ভয় ।
আল্লাহর সামনে হবে সেদিন তাদের জয়।
====
৯।কায়ান মনি
কায়ান মনি , কায়ান মনি ,কেমন আছ তুমি?
পরকালে আনন্দেতে আছ তুমি মানি।
তোমার কথা আমরা যে আর ভুলতে নাহি জানি,
তোমার কথা পড়লে মনে, চোখে আসে পানি,
কিন্তু জানি তুমি আছ বেহেশতেতে মহা সুখে
তবু কেন তোমার কথা পড়লে মনে লাগে বুকে।
নবীজি(সঃ) মোদের বিলাপ করে,
চাপড়িয়ে বুক কানতে করেছেন মানা।
চেষ্টা করে ও তোমার দুঃখ
কেন একটু ভুলতে পারি না।
আশা করি ভালো আছ, থাকবে অনন্তকাল
মোদের লাগি সুপারিশ , যেন পার পাই পরকাল।
====
১০। আমার মা
আত্নীয়দের মধ্যে যত শ্রেষ্ঠ আমার মা,
মায়ের স্মৃতি কখনো যে ভুলতে পারিনা।
অতীত স্মৃতি মনে করে, হৃদয়ে মোর কাপন ধরে,
মা যে আমার কষ্ট করে তুলে রাখত খাবার ভরে,
স্কুল থেকে ঘরে ফিরে, ছেলে আমার খাবে কিরে?
আরো আগের কথা তো আর বলার মত নয়,
বয়স আমার দশ কি বারো মারা গেলেন বাবায়!
আটটি মোরা ভাইবোনে,
কষ্ট দিয়ে মায়ের মনে,
ক্ষেতের কাজ ফেলে রেখে,
স্কুলফিরে খেলতে গেছি মাঠে।
তিনটি আমার ভাই বোন, চলে গেল পরপারে!
মায়ের কত দুঃখ মনে, গড় গড়িয়ে অশ্রু ঝরে!
এখনকার সব মেয়েদের মত,
ক্লান্ত হতে দেখিনি তো।
এমন আমার শ্রেষ্ঠ 'মা' যে
চলে গেলেন ২০২০ ২২ শে মে।
আল্লাহ আমার মা-বাবারে,
সুখে রেখ কবরে।
========
১১। গুহাবাসী
(আল কুরআন, ১৮-আল কাহফ (১-১১) অবলম্বনে)
বিসমিল্লাহ বলে শুরু, সব প্রশংসা আল্লাহর,
যিনি বক্রতাহীন কুরআন দিয়েছেন প্রয়োজনে বান্দার।
যাতে রয়েছে বিপদ কাফেরের,মুমিনের উত্তম পুরস্কার,
কাফের জ্ঞানহীন, মিথ্যাবাদী বলে সন্তান আল্লাহর।
হে নবী (সঃ) তারা ঈমান না আনলে,
তোমার জীবন কি দিবে সংকটে ফেলে।
আমি তো সৌন্দর্য ময় যমীন দিয়ে,
পরীক্ষা করছি কে উত্তম আমলে?
এ মাটি কিয়ামতে করিব উদ্ভিদশূন্য খাটি,
আমার বিস্ময়কর নিদর্শন গুহাবাসী।
গুহায় আশ্রয়ী যুবকগণ বলে হে রব,
দান কর রহমত,পূর্ণ করো মোদের কাজকর্ম সব।
তারপর তাদের ঘুমিয়ে রাখলাম ৩০৯ বছর,
একটি কুকুর ও ছিল তাদের সহচর।
এ নিয়ে তর্ক করো না তারা ছিল ক'জন,
হে নবী, বল তা জানেন আমার আল্লাহ মহান।
====
১২। দুই আংগুরের বাগান
(আল কুরআন, সুরা ১৮-আল কাহফ ৩১-৪৪ অবলম্বনে)
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
-------
আল্লাহ বলেন,খেজুর গাছে ঘেরা দু'টি আংগুর বাগান
পানির নহর দিয়ে তাতে করেছি ফল উৎপাদন।
গরিব বাগান মালিকেরে অহংকারে বলে,
ধনে-জনে শক্তিশালী আমি,তোমাকে পিছনে ফেলে।
আমার এ বাগান কখনো না ধংস হবে,
আমি মনে করি না কখনো কিয়ামত সংঘটিবে।
তার সাথী তাকে বলে,যে আল্লাহ সৃজিয়াছেন তোমায়,
মাটি,শুক্রানু হতে মানুষরুপে তাকে ভুলে গেলে হায়।
তিনিই আল্লাহ, আমার রব আমি ভুলি নাই তাকে,
শরীক করি না তার সাথে কোন কিছুকে।
"মাশা আল্লাহ" বললে না যে, বাগানে প্রবেশ কালে,
যে কারনে বাগানের ফলকে বিপর্যয়ে ঘিরে ফেলে,
অহংকারী বলল হায়, হল সর্বনাশ আমার,
বুঝেছি সব কর্তৃত্ব সব কিছু সত্যবাদী আল্লাহর।
=====
১৩। দুনিয়া ও পরকাল
রুহ আল্লাহর হুকুম দুনিয়ায় মানব দেহ রুপে,
মৃত্যুর সাথে যায় পরকালে, দেহ দেই মটিতে সপে।
মৃত্যু মোদেরে আড়াল করে আছে এহকাল পরকাল,
এটাই কি পরীক্ষা? পরকালে কি আছে ফলাফল?
জীবন মৃতু সৃষ্টি করে পরীক্ষা নিচ্ছেন আল্লাহ।
তাই তো খুঁজে নিয়ে ভালো কাজের দিতে হবে পাল্লা।